‘এ কী ধরনের আত্মনির্ভর ভারত?’

চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে কেন্দ্রকে তোপ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : উৎসবের মরসুমের আগে দেশে চিনির মূল্যবৃদ্ধি এবং মজুত কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। শনিবার সমাজমাধ্যমে তিনটি প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিকেই কাঠগড়ায় তুললেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘মোদী সরকারের নীতির তিক্ততা চিনির মিষ্টিতেও মিশে গিয়েছে।’’

খাড়গের প্রশ্ন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিনি উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন ভারতের চিনির মজুত ন’বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে? কেন রফতানি বন্ধ করে এক মিলিয়ন টন চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির প্রয়োজন পড়ল? তাঁর আরও প্রশ্ন, গত তিন মাসে চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির পিছনে দায় কার?

চিনির ঘাটতির মধ্যেও আখ ও খাদ্যশস্য থেকে ইথানল উৎপাদন করে পেট্রোলে E20 মিশ্রণের নীতি কেন পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন খাড়গে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘চিনি উৎপাদন কমেছে, মজুত ন’বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে, বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হচ্ছে। অন্য দিকে আখ চলে যাচ্ছে ইথানলে। এ কেমন আত্মনির্ভর ভারত?’’

তবে কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করেছে কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চিনির মূল্য বৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনে আখ সরিয়ে নেওয়াকে দায়ী করা ঠিক নয়। সরকারি হিসাবে, ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার ২০২২-২৩ সালে প্রায় ১২ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা নেমে হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। বর্তমানে ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ভুট্টার মতো খাদ্যশস্য থেকে তৈরি হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির খুচরো দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। এর পিছনে প্রত্যাশার তুলনায় কম উৎপাদন, উৎসবের আগে বাড়তি চাহিদা, অতিবৃষ্টি ও রোগে আখের ক্ষতি, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সঙ্কট এবং মজুতদারির মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

চলতি মরসুমে চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস ৩০৬ লক্ষ টন, যেখানে প্রাথমিক হিসাব ছিল ৩৪৩ লক্ষ টন। তবে অক্টোবরের নতুন মরসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রয়োজন মেটানোর মতো মজুত রয়েছে বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র।