হরমুজ প্রণালী ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ !

হরমুজে মার্কিন অবরোধে ৭০ বাণিজ্যিক জাহাজ ঘুরিয়ে দিল নৌবাহিনী, চাপে ইরান।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ-অবরোধ ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় ফের বাড়ল উত্তেজনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর দাবি, অবরোধ কার্যকর করার পর থেকে ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনটি জাহাজকে অচল করা এবং আরও দু’টি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

রবিবার পর্যন্ত পাওয়া হিসাব তুলে ধরে CENTCOM সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর রাখতে আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ইউএসএস জন ফিন-সহ মার্কিন নৌবহর বাণিজ্যিক জাহাজগুলির গতিবিধির উপর নজর রাখছে।

অন্য দিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানও। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা (PGSA) জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনও জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করলে ভবিষ্যতে তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। জরিমানা, জাহাজ আটক এমনকি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপও করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরানের তালিকাভুক্ত ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ জাহাজের সঙ্গে সহযোগিতা করা জাহাজগুলিকেও একই তালিকায় যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে PGSA। পণ্য পরিবহণকারী সংস্থাগুলিকে জাহাজ ভাড়া নেওয়ার আগে ওই তালিকা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী ‘অনুমোদিত’ দেশের জাহাজগুলির কাছ থেকে পরিষেবা বাবদ অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, নৌ-চলাচল, পরিবেশ, জ্বালানি, বিমা ও নিরাপত্তা-সহ একাধিক পরিষেবার জন্য এই ফি নেওয়া হবে। ইরানি মুদ্রা রিয়াল অথবা অন্য কোনও মুদ্রায় অর্থপ্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের সমাজমাধ্যমে এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালীকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ বলে দেখানো হয়েছে। ১৮ অগাস্টও একই ধরনের ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি।

ফলে ইরান ও আমেরিকার পাল্টা পদক্ষেপে হরমুজ ঘিরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—তিন ক্ষেত্রেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।