যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই দুই ধরনের বিমান কীভাবে পারফর্ম করে এবং জে-16-এর প্রকৃত ক্ষমতা কতটা?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : চিনের জে-16 ফাইটার জেট বনাম ফরাসি রাফাল। একদম সামনাসামনি। এমনই বিরল দৃশ্যের দিকে নজর রাখল ভারত। একদিকে গর্জে উঠছে চিনের জে-16, অন্যদিকে রাফাল। তবে এটি মহড়া। যদিও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ যুদ্ধের মতো। ভারতের হাতে থাকা রাফাল এতে অংশ নেয়নি ঠিকই কিন্তু বিশ্বের দুই উন্নতমানের যুদ্ধবিমানের ডগফাইটের দিকে ভারতের নজর রাখার কারণও ছিল যথেষ্ট। গত বছর অপারেশন সিঁদুর-এ ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানের চিনা জে-10 যুদ্ধবিমান। সেই আবহে জে-16 এর মহড়া নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিন ও মিশরের Eagles of Civilization মহড়া থেকে ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা বোঝার সুযোগ পাবেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই দুই ধরনের বিমান কীভাবে পারফর্ম করে এবং জে-16-এর প্রকৃত ক্ষমতা কতটা।
হিডেন ড্রাগন নামে পরিচিত জে-16 আসলে জে-11 এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি উন্নত মাল্টিরোল ফাইটার। আকাশে ক্রমাগত শক্তি বাড়াচ্ছে চিন। সেকথা মাথায় রেখে জে-16 এর পারফরম্যান্সের দিকে ভারতের নজর থাকা স্বাভাবিক।
পাকিস্তান বর্তমানে চিনে তৈরি জে-10C এবং JF-17 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। একইসঙ্গে জে-16 কেনার ব্যাপারেও ইসলামাবাদ আগ্রহ দেখিয়েছে বলে রিপোর্ট রয়েছে। ফলে চিন-মিশর মহড়ার দিকে ভারতের নজর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ভারতও ফ্রান্সের কাছে থেকে আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে।
জে-16 বনাম রাফাল, মুখোমুখি আকাশযুদ্ধ
এই সামরিক মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২২ অগাস্ট। সোমবার চিনের জে-16 যুদ্ধবিমান রাফালের সঙ্গে মুখোমুখি আকাশযুদ্ধ বা ডগফাইটের অনুশীলন করে। পাইলটরা প্রায় বাস্তব যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে কৌশল পরীক্ষা করেন। মিশরের মিগ-29 যুদ্ধবিমানও এই মহড়ায় অংশ নেয়। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রকাশ করা ফুটেজে একটি রাফালকে জে-16-এর কাছাকাছি উড়তে দেখা যায়।
চিনের কোনও যুদ্ধবিমান এই প্রথম সরাসরি রাফালের বিরুদ্ধে আকাশযুদ্ধের অনুশীলন করল বলে দাবি করা হয়েছে। জে-16 এবং রাফাল- দুটিই ৪ পয়েন্ট ৫ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান। আধুনিক অ্যাভিওনিক্স, উন্নত রাডার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থায় সজ্জিত এই দুই বিমানই বহুমুখী যুদ্ধের জন্য তৈরি।
চিনা বিমান বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইয়ানান এক বেসরকারি সংবাদমাধ্য়মকে বলেছেন, জে-16 এবং রাফাল একই জেনারেশনের যুদ্ধবিমান হলেও ফরাসি বিমানটির সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা চিনা জেটের মতো নাও হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে থাকা রাফালগুলিতে India-specific upgrades রয়েছে। ফলে ভারতীয় রাফালের ক্ষমতা মিশরের ব্যবহৃত রাফালের থেকে আলাদা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমী দেশগুলির তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহারকারী দেশগুলির সঙ্গে চিনের যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, এই মহড়াকেও তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সঙ্গেও একই ধরনের মহড়ায় অংশ নিয়েছিল চিন। থাই বিমানবাহিনীতে রয়েছে F-16 এবং Saab Gripen-এর মতো যুদ্ধবিমান।
কেন এই মহড়ায় এত নজর ভারতের?
ভারতের কাছে চিন-মিশরের এই মহড়া শুধুমাত্র একটি সাধারণ সামরিক অনুশীলন নয়। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এবং চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের বাড়তে থাকা সামরিক সহযোগিতা। গত বছর অপারেশন সিঁদুর-এর সময় ভারতীয় রাফাল এবং পাকিস্তানের জে-10 যুদ্ধবিমান সংঘাতে জড়িয়েছিল। ফলে চিনের আরও উন্নত জে-16 বাস্তব যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে কীভাবে পারফর্ম করে, তা ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
এই মহড়া এমন সময় হচ্ছে, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ছে। গত বছরের সংঘাতের পর পাকিস্তান নিজেদের কমব্যাট এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা বাড়াতে চিনের জে-16 যুদ্ধবিমান পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী বলে রিপোর্ট রয়েছে।
অপারেশন সিঁদুর-এর সময় পাকিস্তানের অন্তত এক ডজন সামরিক বিমান, যার মধ্যে আমেরিকার তৈরি এফ-16 এবং চিনা JF-17-ও ছিল। সেগুলি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় বায়ুসেনার তৎকালীন প্রধান এপি সিং গত বছর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার এবং রানওয়েকে টার্গেট করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে মিশরের আকাশে ফরাসি রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-16 ঠিক কতটা কার্যকারিতা দেখাতে পারছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যদি আগামী দিনে পাকিস্তান তাদের বাহিনীতে জে-16 অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তার শক্তি ও দুর্বলতাগুলি ঠিক কী কী, এই মহড়া থেকেই তার আগাম কৌশলগত রসদ সংগ্রহ করছে নয়াদিল্লি। দর্শক মিশরের সঙ্গে চিনের এই যুদ্ধ মহড়া আর তাতে ভারতের সজাগ দৃষ্টি, কারণ ফ্রান্সের তৈরি রাফাল কেমন পারফর্ম করে সেটা বোঝার চেষ্টামাত্র।