বিহারের ছাত্র আন্দোলনে পাশে রাহুল গান্ধী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বিহারে পড়ুয়াদের আন্দোলনের আঁচ এ বার জাতীয় রাজনীতিতেও। ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘লাঠি দিয়ে প্রশ্ন থামানো যায় না।’’ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ।
মঙ্গলবার পটনায় রাজভবন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ৭০তম বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষা বাতিলের দাবিতেই এই আন্দোলন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আটক করার অভিযোগও উঠেছে।
বুধবার সমাজমাধ্যমে রাহুল লেখেন, বিহারের ছাত্রদের প্রশ্ন খুবই সরল—নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম কেন হচ্ছে? প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? আর কত দিন যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে?
রাহুলের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই বিহারের পড়ুয়ারা নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ধরন, পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সরকার লাঠি, জলকামান এবং ধরপাকড়ের পথ নিয়েছে। এমনকি সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশি অস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতার নিশানায় শুধু পুলিশের ভূমিকা নয়, গোটা বিজেপি সরকারের মানসিকতাও। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘ভয় দেখিয়ে কারও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া যায় না।’’ পড়ুয়ারা প্রশ্ন করতেই থাকবেন এবং এ বার শুধু উত্তর নয়, জবাবদিহির দাবি করেন তিনি।
বিপিএসসি-কে ঘিরে এই বিক্ষোভের পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (টিআরই)-এর চতুর্থ পর্ব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে পড়ুয়াদের। রাজ্য জুড়ে দু’দফায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে অবিলম্বে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি উঠেছে।
বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি দিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। ফলে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে বিহারে রাজনৈতিক চাপও ক্রমশ বাড়ছে।