নেপালে বিপর্যয়ে নিখোঁজ বারুইপুরের স্বামী-স্ত্রী তীর্থযাত্রী। নেপালে গিয়ে নিখোঁজ সোনারপুরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চিনের সীমান্তে থাকার কথা জানিয়েছেন। তারপর আর যোগাযোগ নেই।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নেপালে ভয়াবহ বন্যা বিপর্যয়ের পর নিখোঁজ বারুইপুরের স্বামী-স্ত্রী। নিখোঁজরা হলেন নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী শিক্ষা নস্কর, বারুইপুরের বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ তারিখ স্বামী-স্ত্রী মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যান। ২৪ তারিখ শেষবার ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁদের। গতকাল মঙ্গলবার নেপালে ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয়। রসুয়া-ধাদিং সহ একাধিক জেলা বিধ্বস্ত, ১৭ জনের মৃত্যু, ৫০০ জন নিখোঁজ, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় বলে খবর। তারপর থেকেই আর কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে।
অন্যদিকে পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডু। তাঁর স্বামী শুভ্রজিত সিনহা রায় ব্যাঙ্ককর্মী। সোনারপুরের বৈকুন্ঠপুরের বাসিন্দা লোপামুদ্রা একাই ঘুরতে ভালোবাসতেন। প্রতিবছরই বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতেন তিনি। বাড়িতে রয়েছেন স্বামী, মা-বাবা এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে।

জানা গিয়েছে, গত ২১ অগস্ট ‘চলো যাই’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে ৩২ জনের একটি দল বেড়াতে বের হয়। ইতিমধ্যেই তাঁরা নেপালে পৌঁছেছেন। পরিবারের সঙ্গে গতকাল সকালেও কথা হয়েছিল লোপামুদ্রার। ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা চীনের সীমান্ত এলাকায় রয়েছেন এবং সেখানে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না।
এরপর দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে ফের একবার যোগাযোগ করে চিন্তা না করার কথা জানান লোপামুদ্রা। কিন্তু তারপর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে সোনারপুরের বৈকুন্ঠপুরের পরিবার। লোপামুদ্রার সঙ্গে ঠিক কী হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।