নেপালের দুর্যোগে নিখোঁজ বাংলার একাধিক পর্যটক

আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভ্রমণের আনন্দের বদলে এখন শুধু আতঙ্ক। নেপালের পাহাড়ে হড়পা বান নামার পর বাংলার একাধিক পরিবারের ঘুম উড়েছে। যে মানুষগুলি হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে এখন কোনও যোগাযোগ নেই। ফোনে সাড়া নেই। কোনও খবরও নেই। কেউ কৈলাশ- মানস সরোবরের পথে, কেউ নেপাল ভ্রমণে। বিপর্যয়ের জল নামছে ঠিকই। কিন্তু বাড়ছে উৎকন্ঠা। নিখোঁজ বাংলার মানুষগুলি কী নিরাপদে আছেন ?

বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী জেলায় হড়পা বান । আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। সেখানে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে যায়। জলের তোড়ে ভেসে যায় সেতুও। একে একে মৃত্যু ও নিখোঁজের খবর আসতে থাকে। সেই নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে বাংলার বাসিন্দারাও।

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গাপুরের অম্বুজা টাউনশিপের এক দম্পতির সঙ্গে। চলতি মাসের ২১ তারিখ একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন ৬২বছরের দেবাশিস ব্যানার্জি এবং তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রা ব্যানার্জি। নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে আর কোনওভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা যায়। নিখোঁজ দম্পতিকে ঘিরে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। অম্বুজা টাউনশিপ এলাকাতেও ছড়িয়েছে উৎকণ্ঠা। দেবাশিস ব্যানার্জি দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রা ব্যানার্জি শিক্ষকতা করতেন। কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই তাঁরা ওই যাত্রায় বেরিয়েছিলেন। নেপালের বিপর্যয়ের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত পরিবার।

নেপালে নিখোঁজ বারাসত পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পাইওনিয়ার পার্ক এলাকার সুস্মিতা ভট্টাচার্য। ২১ শে অগাস্ট ৩০ জনের টিম যায় নেপালে। তাদের সাথে ভট্টাচার্য পরিবারের সুস্মিতা ভট্টাচার্য নেপালে যান। নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে পশুপতিনাথ মন্দিরে যান । সেখান থেকে মানস সরোবরের কেরুম হয়ে অন্য এলাকায় যান । সেখান থেকে সুস্মিতা ভট্টাচার্যের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকেরা।

নিখোঁজ কলকাতার দেবব্রত রায়চৌধুরী ও লেখা রায়চৌধুরী। ২১ অগাস্ট নেপাল ঘুরতে যান বাগুইআটি অশ্বিনীনগরের বাসিন্দা এই দম্পতি। নিউ টাউনে তাদের এক ফ্ল্যাটে এই মুহূর্তে তালা বন্ধ অবস্থায়। দুজনেই ব্যাংকে কর্মরত । তাদের খোঁজে উদ্বিগ্ন প্রতিবেশীরা।

একদিকে নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়, অন্যদিকে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উদ্বেগের প্রহর গুনছে বাংলার একাধিক পরিবার। কেউ গিয়েছিলেন কৈলাস-মানস সরোবরের পথে, কেউ নেপাল ভ্রমণে। কিন্তু হড়পা বান আর আকস্মিক বন্যার পরই যেন থমকে গিয়েছে তাঁদের স্বাভাবিক জীবন। নিখোঁজদের সন্ধানে প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে পরিবারগুলি। একটাই প্রার্থনা। ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও যেন অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসেন তাঁদের আপনজনেরা।