‘‘বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস’’

ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে ফের দুই মঞ্চ, মমতার নিশানায় বিজেপি ও পুলিশ, পাল্টা ঋতব্রতের ছাত্র সংসদ ভোটের দাবি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : একুশে জুলাইয়ের পর ফের একই দিনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে কলকাতায় দেখা গেল দুই শিবিরের পৃথক কর্মসূচি। এক দিকে ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে বিজেপি এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে রানি রাসমণি রোডের মঞ্চ থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবিতে সরব হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার বক্তৃতায় বার বার উঠে আসে যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না, শুনি না।’’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ‘‘হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস’’—যেখানে যায়, সেখানেই সর্বনাশ করে। ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, রাজনৈতিক চাপের সামনে না থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে হবে।

যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশকেও নিশানা করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘‘আমার সময়ে পুলিশ মানবিক ছিল। আমি এই পুলিশকে চিনি না।’’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ১৫ বছর কেন্দ্রীয় পুলিশ ছাড়াই রাজ্য চালিয়েছে।

ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলা নিয়েও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। বিজেপির পোস্টার প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘বিজেপি দেখলেই পুলিশের ক্ষমতা ৫০ ইঞ্চি।’’ গ্রেফতার করতে এলে প্রতিরোধের বার্তাও দেন তিনি।

নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘হানিমুন থেকে মানিমুন, চার মাসে সব করেছেন।’’ একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ হাজার মামলা করা হয়েছে। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট, এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

অন্য দিকে রানি রাসমণি রোডের সভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত চালুর দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করেছিল। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র আন্দোলনের প্রোডাক্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবিলম্বে করতে হবে।’’ বিজেপি সরকারেরও সমালোচনা করে তাঁর বার্তা, তৃণমূলের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে নতুন সরকারকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

এরই মধ্যে বিধানসভা গ্রন্থাগারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি বই মমতার কাছে রয়েছে বলে ওঠা অভিযোগও এ দিনের সভায় উঠে আসে। গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষের দাবি, রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮টি খণ্ড এবং ‘সঞ্চয়িতা’ মিলিয়ে ১৯টি বই মমতার জিম্মায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলি গ্রন্থাগারে ফেরত আসেনি।

অভিযোগের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘‘প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগ করবেন না।’’ তাঁর দাবি, বইগুলি তাঁর কাছে নেই। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারে রয়েছে। মমতার আরও বক্তব্য, ‘‘আমি নিজেই বই লিখি। চাইলে একটা গোটা লাইব্রেরি করে দিতে পারি।’’