হাই অ্যালার্ট জারি করল নেপাল!

ভোটে কোশীতে শোনা গেল ফের গর্জনের শব্দ

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: হড়পা বানের আশঙ্কা, মৃত বেড়ে ৭৫০নেপাল ও চীন (তিব্বত) সীমান্তে হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া ভয়াবহ হড়পা বানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক আকার ধারণ করেছে। ৩০ আগস্ট সকালে ভোটো কোশী (Bhote Koshi) নদীতে ফের গর্জন ও জলের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) নতুন করে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।​১. বিপর্যয়ের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি​হিমবাহ ধস ও ভূমিকম্প: গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভূমিকম্প ও হিমবাহের বিরাট অংশ (Glacial Outburst) নদী সংলগ্ন জলাধারে ভেঙে পড়ে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ, কাদা ও পাথর লেন্দে খোলা নদী হয়ে ভোটে কোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আছড়ে পড়ে। ​প্রাণহানি ও নিখোঁজ: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫০ জনের কাছাকাছি (সর্বশেষ হিসেবে ৭৩৪ থেকে ৭৫০ জন) পৌঁছেছে। এখনো ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ​তাজা সতর্কতা: তিব্বতের অংশে আটকে থাকা প্রাকৃতিক হ্রদ বা জলের উৎস থেকে জল পুরোপুরি নিষ্কাশিত না হওয়ায় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভোটো কোশী ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতবন জেলায় পুনরায় ভয়াবহ বানের আশঙ্কায় স্থানীয়দের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ​২. আটকে পড়া পর্যটক ও ভারতীয় তীর্থযাত্রী​বানের কারণে কৈলাশ মানস সরোবর, লাংটাং এবং গোসাইকুণ্ড রুটে যাওয়া বহু তীর্থযাত্রী ও ট্রেকার যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ​নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক ও অ-প্রবাসী ভারতীয় (NRI) রয়েছেন, যার মধ্যে কৈলাশ যাত্রায় অংশ নেওয়া ইশা ফাউন্ডেশনের সদস্য ও অন্যান্য ট্র্যাভেল গ্রুপের পর্যটকরা অন্তর্ভুক্ত। ​৩. পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি​সেতু ও সড়ক ধ্বংস: রসুয়াগাধি সীমান্ত থেকে সংযোগকারী ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথ পুরোপুরি ধসে গেছে এবং অন্তত ১৯টি বড় যানবাহন চলাচলের সেতু বানের তোড়ে ভেসে গেছে। ​বিদ্যুৎ প্রকল্প: জলবিদ্যুৎ খাতে বিশাল আঘাত হেনেছে এই বন্যা। আনুমানিক ১৩টি কার্যকর ও নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (যেমন রসুয়াগাধি, সঞ্জেন খোলা, আপার ত্রিশূলী ৩এ) গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো হয়ে পড়েছে। ​৪. উদ্ধারকার্য ও আন্তর্জাতিক সহায়তা​নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বল এবং সাধারণ পুলিশ বাহিনী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ​ভারত সরকার নেপালে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে এবং যৌথভাবে নিখোঁজ ভারতীয়দের উদ্ধারে কাজ করছে। ভারতীয় কাঠমাণ্ডু দূতাবাস বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (+977 9851316807, +977 9709107500) চালু করেছে। ​ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও কোসী, গণ্ডক ও রাপ্তি নদীর জলস্তর বাড়ায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।