আরএসএস-বিজেপিকে নিশানা সিপিএমের

“সিপিএম যাতে অধিবেশন ও প্রকাশ্য সমাবেশ করতে না পারে, তার জন্য জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে চেষ্টা করা হয়েছিল। “

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আরএসএস-বিজেপি অপরাজেয় নয়। কৃষক আন্দোলন থেকে যন্তর মন্তরে ছাত্র যুবদের আন্দোলন-আরএসএস ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের কাছে হার স্বীকার করতে হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। আরএসএস-বিজেপিকে পরাজিত করতে দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। রবিবার কল্যাণীতে সিপিএমের দু দিনের রাজ্য কমিটির বিশেষ অধিবেশন শেষে প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এম এ বেবি বলেন, আরএসএসের নির্দেশে বিজেপি কী করতে চাইছে,তা বুঝে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। লড়াই এখন মুখোমুখি। একদিকে আমজনতা ও গণতান্ত্রিক শক্তি, অন্য দিকে গেরুয়া শিবির।

বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, এতদিন তৃণমূল মানুষের চোখে পর্দা লাগিয়ে রেখেছিল। বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই পর্দা সরে গিয়েছে। ফলে রাজ্যে বামেদের লড়াই এখন সরাসরি বিজেপির সঙ্গে। নতুন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে,তাকে রাস্তায় নামিয়ে আনাই বামপন্থীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কল্যাণীর সমাবেশকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন সেলিম। তাঁর দাবি, সিপিএম যাতে অধিবেশন ও প্রকাশ্য সমাবেশ করতে না পারে, তার জন্য জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে চেষ্টা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা আটকানো যায়নি। তাঁর কথায়, প্রশাসন বুঝতে পেরেছিল অধিবেশন বা সমাবেশ আটকাতে গেলে গণপ্রতিরোধ তৈরি হতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি ও আরএসএসকে নিশানা করে সেলিমের মন্তব্য, ওরা বামপন্থীদের ভয় পেয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে তৃণমূল জমানার তুলনা টেনে তাঁর অভিযোগ, ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ইংরেজরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। একইভাবে তৃণমূলও ভয় ও বিভাজনের রাজনীতি করেছিল। তৃণমূলের পরিণতি থেকে বিজেপির শিক্ষা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যাদবপুরের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লোগান নিয়ে সেলিমের মন্তব্য কে দেশবিরোধী, কে দেশবিরোধী নয় সরকার সেটা ঠিক করার কে?

দলবদলের রাজনীতি নিয়েও কটাক্ষ করেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, দখলদারি রাজনীতি করতে গিয়ে বিজেপি যে তৃণমূলের নেতাদেরও দলে নিচ্ছে, তা থেকেই তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের দ্বিচারিত স্পষ্ট।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে নতুন সরকার মাত্র তিন মাসেই তাদের আসল লক্ষ্য সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছে। যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্র-যুবদের সমস্যার সমাধান করা সরকারের লক্ষ্য নয়। বরং বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণ নামিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ছাত্র-যুবরা প্রস্তুত। অন্যায় দেখলেই প্রতিরোধ তৈরি হবে। কার্যত একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষের কথাতেও। যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রীর ড্রোন ওড়ানোর মন্তব্যকে কটাক্ষ করে শতরূপ বলেন, দেখবেন ড্রোন-এ না দেখা যায় যে বিজেপির কেউ হাত পেতে টাকা নিচ্ছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের স্লোগান দেওয়া সরকার বন্ধ করতে পারবে না বলেই মত বিকাশ বাবুর।

কিন্তু সিপিএমের নেতার যখন বারবার বার্তা দিচ্ছেন, নিচু তলাকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আর নিচুতলা থেকে এবার প্রশ্ন উঠছে, পরিস্থিতির উপযোগী রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক না করলে শুধু নিচু তলার কর্মীরা কী করবেন। কল্যাণীর এই অধিবেশনে দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্নে সরব হন বিভিন্ন জেলার নেতারা। রাজ্যে এ বারের পরিবর্তনের পরে অল্প দিনের মধ্যেই বামেদের কর্মসূচিতে ভাল ভিড় হচ্ছে, সাড়া মিলছে। কিন্তু রাজ্য বা জেলা স্তরে যা হচ্ছে, স্থানীয় স্তরে তেমন হচ্ছে না। নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবকেই এর জন্য দায়ি করছেন জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ।