উত্তম কুমারের জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে তুলতে রাজ্য সরকারের তরফে রয়েছে একাধিক পরিকল্পনা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। কলকাতার সিনেপাড়া থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত-বাঙালির প্রিয় অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে একাধিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। সেই আবহেই জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে মহানায়ককে বিশেষ সম্মান জানালের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১৩৭তম পর্বে উঠে এল বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের প্রসঙ্গ।
রবিবার, মন কি বাত-এ উত্তম কুমারকে স্মরণ করে তাঁর অভিনয় প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী। তার আগে দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে উত্তম কুমারের নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই শ্রদ্ধার্ঘ্য।
উত্তম কুমারের অভিনয় প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এক বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিনয়ের মধ্যে যে গভীরতা, আবেগ এবং ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটত, তা দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কয়েক দশক পেরিয়েও কেন উত্তম কুমার বাঙালির কাছে এতটা প্রাসঙ্গিক, তাঁর অভিনয়ের সেই শক্তির কথাই যেন উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। মহানায়ক উত্তর কুমারের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তম কুমারজ একজন বহুমুখী প্রতিভা ছিলেন, যিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। সিনেমাপ্রেমীরা মনে করেন, সত্যজিৎ রায় নায়ক সিনেমার স্ক্রিপ্ট মহানায়ক উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই তৈরি করেছিলেন। সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন যে উত্তম কুমারেরে মধ্যে সম্মানের পাশাপাশি অদ্ভূত এক গভীরতা ছিল। প্রত্যেকটা চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে প্রবল পরিশ্রম করতেন। উত্তম কুমার শুধু নিজের অনন্য অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না, তাঁর জীবন থেকে কখনও হার না মানার শিক্ষা পাওয়া যেত। অভিনয়ের শুরুতে তাঁর সিনেমা খুব একটা ভালো চলেনি, তারপরও তিনি হার মানেননি, নিজের কাজে ফোকাসড ছিলেন। এই জন্যই তিনি সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নায়ক-এর চিত্রনাট্য সম্ভবত উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। মহানায়কের আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা এবং তাঁর মর্যাদাপূর্ণ অভিনয়ের গভীরতাও পরিচালক বিশেষভাবে প্রশংসা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার শুধু একজন সফল অভিনেতা নন, তিনি কার্যত একটি যুগের নাম। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি এবং রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা তাঁকে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছে। সপ্তপদী, সাগরিকা, হারানো সুর, চৌরঙ্গী, নায়ক-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়।
এবার সেই মহানায়কই পা রাখতে চলেছেন জন্মের একশো বছরে। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে রাজ্য সরকারের তরফে রয়েছে একাধিক পরিকল্পনা। নতুন করে সেজে উঠবে টালিগঞ্জের চলচ্চিত্রপাড়া, আয়োজন করা হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও শ্রদ্ধার্ঘ্যের।
তার ঠিক আগেই মন কি বাত-এর মতো জাতীয় মঞ্চে মহানায়ককে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে জন্মশতবর্ষের উদযাপনের আবহে উত্তম কুমারকে ঘিরে বাঙালির আবেগের সঙ্গে যুক্ত হল আরও একটি বিশেষ মুহূর্ত।