অভিযোগ, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর মিলে ওই ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে। তারপর রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয় তাকে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বৃষ্টিভেজা রাত। চারপাশ অন্ধকার। পথ ভুল করে গ্রেটার নয়ডার পরি চক এলাকায় নেমে পড়েছিল এক কিশোরী। গন্তব্য ছিল নয়ডার সেক্টর ৬৩। সেখানে তার এক আত্মীয় থাকেন। সাহায্যের আশায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীকে একটি ফাঁকা স্লিপার বাসে উঠতে বলা হয়। এরপর সেই বাসেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। পুলিশের অভিযোগ, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর মিলে ওই ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে তাকে রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি গত ৪ অগস্ট রাতে। উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী জেলার বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী বাড়িতে মায়ের বকুনি খাওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়েই বেরিয়ে পড়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল নয়ডার সেক্টর ৬৩-এ থাকা এক আত্মীয়ের কাছে যাওয়া। বাসে করে যাওয়ার সময় প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে পথ ভুল করে গ্রেটার নয়ডার পরি চক এলাকায় নেমে যায় সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারে, ভুল জায়গায় নেমে পড়েছে এবং যে বাসে এসেছিল সেটিও ততক্ষণে চলে গিয়েছে। অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় একটি ফাঁকা স্লিপার বাস তার কাছে আসে। কিশোরী সাহায্যের জন্য বাসটিকে থামার সংকেত দিলে চালক ও কন্ডাক্টর তাকে জানান, বাসটি নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। সেই বিশ্বাসেই বাসে উঠে পড়ে সে।
কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, বাস কিছুটা এগোনোর পর থেকেই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে শুরু করে।
অভিযোগ চালক ও কন্ডাক্টর মিলে তাকে যৌন নির্যাতন করে। সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে খুনের হুমকিও
দেওয়া হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছে কিশোরী।
বাসটি তখনও চলছিল। প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছে রিং রোডের ধারে কিশোরীকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরে কিশোরী পুলিশের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা জানায়। তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্রের সাহায্যে বাসটির গতিবিধি খতিয়ে দেখে। এরপর উত্তর দিল্লির তিমারপুর এলাকার একটি পার্কিং থেকে চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপকে গ্রেফতার করা হয়। যে স্লিপার বাসে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ সেটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটির জানালাগুলি পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল ফলে বাইরে থেকে ভিতরের পরিস্থিতি সহজে দেখা সম্ভব ছিল না।
এই ঘটনায় ফের সামনে এসেছে গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল দিল্লিতে ঘটে যাওয়া নির্ভয়ার কথা। ২০১২ সালে ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির ভয়াবহ গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর বাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক নিয়ম চালু করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১৪ বছর পর ফের একটি চলন্ত বাসের ভিতরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীদের মতে পরি চক থেকে কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ বাসটি পেরোলেও ঘটনাটি আটকানোর মতো কোনও নজরদারি কার্যকর ছিল কি না তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-সহ প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং নাবালিকা হওয়ায় পকসো আইনের অধীনেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিশোরীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আর কত ঘটনার পর গণপরিবহণে নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একজন নারী বা কিশোরী কি রাতের রাস্তায়, বাসে কিংবা কোনও গণপরিবহণে নিরাপদে যাতায়াত করার অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলছে? অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এখন অপেক্ষা ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার।