প্রতীক ইস্যুতে ফের কমিশনের দ্বারস্থ মমতা!

প্রতীক-তহবিলের ‘যুদ্ধ’ মেটেনি, কমিশনকে ফের চিঠি মমতার, ‘তাড়াতাড়ি ফয়সালা করুন’।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তার পরেও কেটে গিয়েছে প্রায় এক মাস। কিন্তু এখনও মেটেনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং তহবিল নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ‘লড়াই’। আগস্টের মধ্যেই এই বিবাদের নিষ্পত্তি করার কথা ছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। সেই সময়সীমাও পেরিয়ে যাওয়ায় সোমবার, আগস্টের শেষ দিনে, কমিশনকে ফের চিঠি পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদন, ‘‘তাড়াতাড়ি ফয়সালা করুন। বহুদিন পার হয়ে গিয়েছে।’’

সূত্রের খবর, মমতার চিঠির সঙ্গে কয়েক জন বিধায়কের চিঠিও কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের কয়েক জনকে ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। তবে কোন কোন বিধায়ক ওই চিঠি দিয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি ঋতব্রত শিবিরে থাকা কিছু বিধায়ক ফের কালীঘাটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভিতরে ভাঙন শুরু হয়। একের পর এক বিধায়ক ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করা ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন। দিল্লিতেও তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি। রাজ্যসভার তিন সাংসদ সরাসরি বিজেপির সঙ্গে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই দলের প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে কালীঘাট বনাম ‘আসল’ তৃণমূলের সংঘাত তীব্র হয়।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের মধ্যে দু’পক্ষকে নিজেদের দাবি ও তথ্যপ্রমাণ কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। কালীঘাটপন্থী শিবিরের হয়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষেরা নথি জমা দেন। অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির আরও সময় চেয়েছিল। তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন মমতা।

পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, দু’পক্ষের নথি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আইনের বাইরে কিছু হবে না। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, ১৫ আগস্টের মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। কিন্তু আগস্ট শেষ হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই ফের কমিশনের দ্বারস্থ হলেন মমতা।

এই চিঠির পরেই প্রশ্ন উঠছে— ঋতব্রত শিবির থেকে কি কেউ ফেরার বার্তা দিচ্ছেন? কত জন বিধায়ক রয়েছেন সেই তালিকায়? আর শেষ পর্যন্ত দলের প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?