নেপাল বিপর্যয়ে এক বাড়ি থেকেই উদ্ধার ২৪ মরদেহ!

মাটির নিচে আরও চাপা থাকার আশঙ্কা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তছনছ নেপাল। গত ২৬ অগস্ট ত্রিশূলী ও ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের কোপে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গিয়েছে নেপাল। জল আর কাদামাটির প্রবল স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে লোকালয়ের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু। বিপর্যয়ের পর মৃত্যুমিছিল এখনও অব্যাহত। মাটি খুঁড়ে, কাদার স্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ।
এমন আবহে এবার নেপালের বিদুরে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ২৪ জনের মরদেহ। বাড়িটিতে আরও মরদেহ চাপা রয়েছে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকারীদের। যার ফলে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০০০ ছুঁই ছুঁই। ২৫০০ জনের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ। স্থলপথ ও আকাশ পথে উদ্ধার অভিযান চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নেপালের আকস্মিক বন্যার ধ্বংসলীলার একাধিক ছবি-ভিডিও।

জানা গিয়েছে, নেপালে মহাপ্রলয়ের সময় বাড়ির মধ্যেই ছিলেন ২৪ জন। বন্যার সময় বাড়ির ভিতরে আটকা পড়ে যান তাঁরা। পরে বন্যার জলে ভেসে আসা কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। গতকাল সোমবার (৩১ অগস্ট) বাড়িটি থেকে মরদেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বিদুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ওই বাড়িতে আবারও উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। ওই বাড়ির নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা উদ্ধারকারীদের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলির মধ্যে একটি শিশুর। বাকি ২৩ জনই প্রাপ্তবয়স্ক। মরদেহের মধ্যে ছয়টি হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য মরদেহগুলি বিদুরেই রাখা হয়েছে। সেগুলি পরে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ওই বাড়ির পাশের বাড়িতেও মরদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুত্রের খবর, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় পর্বতমালার লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের উত্তরে বিপর্যয়ের উৎপত্তি। প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় ছিল হিমবাহটি। তা ভেঙে আছড়ে পড়ে ১২০০ মিটার নীচে। সেই ধাক্কায় জল এত বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছিল। এই বন্যার ধ্বংসলীলার কারণে কয়েক বছর পিছিয়ে গেল নেপাল।