১০০০-এর গণ্ডি ছাড়াল নেপালে মৃতের সংখ্যা!

নিখোঁজ ৪,০০০! সুড়ঙ্গে আটকে শতাধিক শ্রমিক।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি হিমবাহ ধস (Glacial Collapse) ও ভয়াবহ হড়পা বানের (Flash Flood) কারণে একটি অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। কাদা, বরফ এবং পাথরের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে একের পর এক পাহাড়ি গ্রাম, সড়ক পরিকাঠামো এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
​১. প্রাণহানি ও নিখোঁজদের সংখ্যা
​মৃতের সংখ্যা: দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছুঁইছুঁই (অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে ৯৫০-এর বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে)।
​নিখোঁজ: এখনও পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু ভারতীয় জলবিদ্যুৎ শ্রমিক এবং ভারত ও অন্যান্য দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন।

২. সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিক ও সংকট

ত্রিশূলি ও রাসুয়াগাধি প্রকল্প: হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলির (বিশেষ করে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার) বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাদা ও পাথর ঢুকে মুখ বন্ধ হয়ে গেছে।


আটকে শতাধিক শ্রমিক: ‘ত্রিশূলি ৩এ’ এবং ‘আপার ত্রিশূলি-১’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলিতে শতাধিক শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। সুড়ঙ্গের প্রবেশ ও বাইরের পথ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।


ড্রোন ও থার্মাল স্পট অভিযান: সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রাণের অস্তিত্ব ও শ্রমিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।


​৩. উদ্ধারকাজ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য
​নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল আকাশপথে হেলিকপ্টার ও ড্রোন নামিয়ে দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছ। ​ভারত ও চিন উভয় দেশই বিশেষ টানেল-রেসকিউ টিম (সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ), উদ্ধারকারী সেনা ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।


​টানা বৃষ্টি, ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধারকাজে বারবার বাধা আসছে।
​উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ মানুষদের একটি বড় অংশ কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকায় বা জলে ভেসে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।