আন্তর্জাতিক মেলার স্বীকৃতির জোরালো ইঙ্গিত ও যাতায়াত পথ সুগম করতে তিনশোর বেশি দোকান ভাঙার নির্দেশ: যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-কে ঐতিহাসিক ও সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে ইতিমধ্যেই জোরকদমে আসরে নেমে পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। মেলা প্রাঙ্গণের সার্বিক পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করতে বুধবার দুপুরে গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করলেন শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এদিনের এই মেগা পরিদর্শনের মধ্য দিয়েই মূলত ২০২৭ সালের মেলার আনুষ্ঠানিক ও দাফতরিক প্রস্তুতির বড় পদক্ষেপ শুরু হয়ে গেল।
বুধবার দুপুরে প্রথমে সাগর ব্লক অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রাথমিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মেলার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর প্রশাসনিক প্রতিনিধিদল সোজা পৌঁছে যান গঙ্গাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বেনুবনঘাট, ঐতিহাসিক কপিলমুনির আশ্রম এবং প্রধান স্নানঘাটগুলিতে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত রাখা যায়, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন আধিকারিকরা।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সাগরের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনন্ত কুমার গোস্বামী, পূর্ত দফতর বা পিডব্লিউডি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা, বিএলআরও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, ভারতীয় জনতা পার্টির ব্লক কনভেনার ও বিভিন্ন মণ্ডলের সভাপতিরা এবং একাধিক দাফতরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গঙ্গাসাগর পয়েন্ট ও মূল মেলা চত্বর পরিদর্শনের পর কচুবেড়িয়া ঘাট থেকে শুরু করে সাগর অভিমুখী যাতায়াতের প্রধান সড়ক এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিও পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন তাঁরা। চলতি প্রস্তুতি পর্বের সবথেকে উল্লেখযোগ্য এবং চর্চিত বিষয় হলো গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনা। ২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হলে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ন্যাসী এবং বিদেশি পর্যটকদের ঐতিহাসিক ঢল নামবে এই সাগরদ্বীপে।
আর সেই সম্ভাব্য বিশাল জনস্রোত এবং রেকর্ড ভাঙা ভিড়কে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত পথ সম্পূর্ণ জ্যামমুক্ত, নিরাপদ ও সুগম করতে এখন থেকেই একাধিক কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে, যাতায়াতের রাস্তা প্রশস্ত করা এবং যানজট রোধ করার উদ্দেশ্যে বড়সড় বুলডোজার বা ভাঙার নীতি নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর মেলা চত্বর এবং যাতায়াতের মূল রাস্তার ধারে থাকা প্রায় তিনশোটিরও বেশি দোকানদারকে ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাস্তার দু’ধারের অবৈধ জবরদখল হটাতে এবং চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখতে এই তিনশোরও বেশি দোকান অবিলম্বে ভেঙে বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এই মেলাকে সফল করতে এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষাধিক পুণ্যার্থীয়ের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই মাঠে নেমে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।