জন্মাষ্টমীতে ঐতিহাসিক কৃষ্ণ মন্দিরে ভোর চারটে থেকেই ভক্তের ঢল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এক দিকে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত, অন্য দিকে জন্মাষ্টমী উৎসব। সেই দুইয়ের মাঝেই শুক্রবার ভোর থেকে ভক্তদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠল নেপালের কাঠমান্ডু। কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শহরের ঐতিহাসিক কৃষ্ণ মন্দিরে ভোর চারটে থেকেই শুরু হয় পুণ্যার্থীদের আনাগোনা। উপবাস, পুজো, দর্শন এবং প্রসাদ গ্রহণে দিনভর মন্দির চত্বরে ছিল উৎসবের আবহ।
সম্প্রতি ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই বিষণ্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী যেন কিছুটা স্বস্তির পরিসর তৈরি করেছে। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তেরা মন্দিরে এসে প্রার্থনা করেন। মন্দিরের পুরোহিত ভুবন থাপালিয়া জানান, এ বারের জন্মাষ্টমী বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কৃষ্ণের জন্মতিথি অষ্টমীর সঙ্গে তাঁর জন্মনক্ষত্র রোহিণীর বিশেষ যোগ তৈরি হয়েছে এ বার।
পুরোহিতের কথায়, ‘‘এমন যোগ প্রতি বছর হয় না। এ বার কৃষ্ণের জন্মনক্ষত্র রোহিণী নক্ষত্রের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর মিল হয়েছে। তাই এ বারের উৎসব বিশেষ।’’
ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ থেকেই মন্দিরে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই ভিড় বজায় থাকে। ভক্তেরা ফুল, ফল নিয়ে পুজো দেন এবং কৃষ্ণের দর্শন করে প্রসাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় এক মহিলা অর্চনা জানান, জন্মাষ্টমীতে তিনি স্বামীর মঙ্গল কামনায় উপবাস করেন। তাঁর কথায়, প্রতি বছরই এই মন্দিরে এসে পুজো দেন তিনি।
কাঠমান্ডুর পাশাপাশি জন্মাষ্টমীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ঐতিহাসিক পাটনের কৃষ্ণ মন্দির। পাটন দরবার স্কোয়্যারের এই পাথরের মন্দিরটি ১৬৬৭ সালে রাজা সিদ্ধি নরসিংহ মল্লের আমলে নির্মিত। তিনতলা এই মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণ ও রুক্মিণীর বিগ্রহ রয়েছে।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে সংস্কারের পর ফের খুলে দেওয়া হয়। গত বছরও জন্মাষ্টমীতে সেখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছিল।
এ বারও উৎসবের মধ্যেই নেপালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ভারত আরও দু’টি ত্রাণবাহী বিমান পাঠিয়েছে কাঠমান্ডুতে। ২১.৫ টন ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি ছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফরেন্সিক কিট। নেপাল এখনও বিপর্যয় সামলানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।