‘চাঁদে ফিরছি আমরা, পাশে চাই ভারতকে’

বেঙ্গালুরুতে বড় বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ফের চাঁদে পা রাখার প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা। আর সেই অভিযানে ভারতকে পাশে চায় ওয়াশিংটন। সোমবার বেঙ্গালুরু স্পেস এক্সপো ২০২৬-এ এসে এমনই বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর। তাঁর দাবি, আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ইতিমধ্যেই ভারতের ইসরোকে চাঁদে ঘাঁটি তৈরির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বেঙ্গালুরুর মঞ্চে গোর বলেন, ‘‘ভারত আর্টেমিস অ্যাকর্ডসের গর্বিত স্বাক্ষরকারী। নাসা ইসরোকে আমাদের মুন বেস প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কোনও ভুল নেই—আমরা চাঁদে ফিরছি এবং চাঁদের মাটিতে আমাদের পাশে ভারতকে চাই।’’

আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদের আরও গভীরে গবেষণা চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির ভিত তৈরি করতে চাইছে আমেরিকা। সেই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে মানুষকে মঙ্গলগ্রহে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ভারত-আমেরিকা মহাকাশ সহযোগিতার উদাহরণ হিসাবে গোর বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন নাসা-ইসরোর যৌথ উপগ্রহ প্রকল্প ‘নিসার’-এর কথা। তাঁর দাবি, নিসার কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রকল্প নয়, বাস্তব পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন বাঁচাতেও কাজে আসছে। ভেনেজ়ুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ঘন মেঘ ও ধুলোর মধ্যেও নিসারের ব়্যাডার তথ্য উদ্ধারকারী দলকে দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।

মানব মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্রেও ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রাকে তিনি দুই দেশের সহযোগিতার ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের পর যৌথ গবেষণা, মহাকাশযানের ডকিং প্রযুক্তি, পারস্পরিক সক্ষমতা এবং নভোচারী প্রশিক্ষণ নিয়েও দুই দেশ কাজ করছে বলে জানান গোর।

ভারতীয় মহাকাশ শিল্পের বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য আমেরিকার বাজারও খুলে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। পিক্সেল, গ্যালাক্সআই, দিগন্তরা, বেলাট্রিক্স, স্কাইরুট এবং অগ্নিকুলের মতো ভারতীয় স্টার্টআপগুলির নাম করে গোর বলেন, ‘‘আমেরিকার বাজার আপনাদের জন্য খোলা। আমাদের বিনিয়োগকারীরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।’’

মহাকাশে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন তৈরির ক্ষেত্রেও ভারত-আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকা ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে শুধু যোগ হয় না, গুণ হয়।’’ বেঙ্গালুরু থেকেই তাই তাঁর আহ্বান—বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করুক, ফিরুক চাঁদেও।