ইরানের মানচিত্রেই নিজের মুখ বসালেন ট্রাম্প!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সপ্তাহান্তে ইরানে নতুন করে কোনও সামরিক হামলা চালায়নি আমেরিকা। কিন্তু তাতে চাপ কমেনি। বরং নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একের পর এক পোস্ট করে ইরানের উপর চাপ আরও বাড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পোস্টগুলিতে কার্যত ইরানকে ‘মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তেল রফতানিকে নিশানা করার ইঙ্গিতও রয়েছে।
ট্রাম্পের প্রচারমূলক পোস্টগুলির মধ্যে একটি গ্রাফিকে ইরানের তেল রফতানি দ্রুত কমে যাওয়ার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসাবে পরিচিত খার্গ দ্বীপের তেল পরিকাঠামোয় হামলার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, ট্রাম্পের পোস্টে ছিল রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তাও। মধ্যপ্রাচ্যের একটি মানচিত্রে ইরানের অংশটিকে এমন ভাবে দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের মুখের আদলের সঙ্গে মিলে যায়। সেই গ্রাফিকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব এবং নিজের নেতৃত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সপ্তাহান্তে নতুন কোনও মার্কিন হামলা না হলেও ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশলেই যে ওয়াশিংটন এগোচ্ছে, ট্রাম্পের পোস্টগুলি থেকে সেই বার্তাই স্পষ্ট।
বিশেষ করে ইরানের তেল রফতানি এবং খার্গ দ্বীপকে ঘিরে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি তেহরানের উপর চাপ বাড়ানোর বড় হাতিয়ার হতে পারে। কারণ তেল রফতানির উপর আঘাত হানলে ইরানের রাজস্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিকে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার পর ইরানের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সে দিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ এবং হুমকি-পাল্টা হুমকির পর্ব আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।