প্রাণ হাতে নিয়েই সুন্দরবন ইলিশ উৎসবে পর্যটকরা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বাসন্তীর সোনাখালিতে হোগল নদীর উপরে তৈরি হয়েছে পনটুন জেটি। রাজ্য পরিবহন দফতর জেটিটি তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে না হলেও বেশ কয়েকমাস আগেই জেটি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তবুও এই জেটি সর্বসাধারনের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি এখনও। ফলে সুন্দরবনে আগত পর্যটকরা যথেষ্ট সমস্যায় পড়েছেন। জেটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার কারণে নদীর পাড় থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের পাটাতন বেয়ে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে ওঠানামা করতে হচ্ছে তাঁদেরকে। দুর্ঘটনার কবলেও পড়তে হচ্ছে কখনও কখনও। দ্রুত যাতে এই জেটি পর্যটকদের জন্য ও এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেই দাবি জানিয়েছেন সকলেই।
সুন্দরবনে চলছে ইলিশ উৎসব। এই ইলিশ উৎসবে যোগ দিতে হাজার হাজার মানুষ প্রায় প্রতিদিনই আসছেন সুন্দরবনে। ক্যানিং থেকে সোনাখালি পর্যন্ত সড়ক পথে গিয়ে বর্তমানে সোনাখালি থেকেই জলযানে চাপেন ৮০ শতাংশ পর্যটক। দীর্ঘদিন ধরে ভগ্ন জেটি দিয়ে ওঠানামা করতে হত পর্যটকদের। ২০২৪ সালে তাই পর্যটন ব্যবসায়ীদের অনুরোধে পর্যটকদের কথা মাথায় বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে রাজ্য পরিবহণ দফতর সোনাখালিতে পনটুন জেটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। কথা ছিল ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। যদিও বরাত পাওয়া ঠিকাদারি সংস্থা সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। অবশেষে কিছু মাস আগে সেই কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত পনটুন জেটি সর্ব সাধারনের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে এখনও প্রাণ হাতে নিয়ে কাঠের পাটাতনের উপর দিয়ে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে ওঠা নামা করতে হচ্ছে পর্যটকদের। লঞ্চের এক কর্মচারী সনাতন সর্দার বলেন, “ পর্যটকদের ওঠা নামা করতে খুবই সমস্যা হয়। জোয়ারের সময় কিছুটা সমস্যা কম হলেও ভাটাতে এই কাঠের পাটাতন বেয়ে ওঠানামা করতে অনেকেই ভয় পান। পাটাতন থেকে পড়ে গিয়ে বিপত্তিও হয়েছে বহুবার।” পর্যটন ব্যবসায়ী সুবোধ সরকার, নিতাই রাহারা বলেন, “এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ জেটি। দূর দুরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা খুব খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছেন। যতদিন জেটি ছিল না ততদিন ঠিক আছে। কিন্তু যখন এই জেটি তৈরি হয়ে গিয়েছে তখন কেন সকলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে না!”
বাসন্তীর বিডিও সঞ্চিতা ঘোষ বলেন, “ আমি মাত্র কিছুদিন হল এই ব্লকে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখবো।” তবে ঠিকাদার সংস্থা কাজ সম্পূর্ণ করে জেটি পরিবহণ দফতরকে আদৌ হস্তান্তর করেছে কিনা সেই বিষয়টি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্লক প্রশাসন। ঠিকাদার সংস্থার মালিক মহম্মদ নিজাম বলেন, “ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। পরিবহণ দফতরকে হস্তান্তরও করা হয়েছে।” বাসন্তীর বিজেপি নেতা বিকাশ সর্দার বলেন, “ ইতিমধ্যেই আমরা এ বিষয়ে রাজ্য পরিবহণ দফতরের মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের কাছে দরবার করেছি। যাতে দ্রুত এটিকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেই দাবি জানিয়েছি।” রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের প্রতিক্রিয়া অবশ্য মেলেনি এ সম্পর্কে। তাঁকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন নি। এসএমএস করলে উত্তরও দেন নি।