প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে দুর্গতদের সাহায্য

প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে রেখে বন্যা দুর্গতদের পাশে খোকন!

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নিজে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। ছোটবেলায় মাত্র ৩ বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে দুটি পা অক্ষম হয়ে গিয়েছিল খোকন মণ্ডলের। সেই থেকেই দুটি ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলাচল করেন বছর চল্লিশের এই যুবক। কিন্তু নিজের প্রতিবন্ধকতাকে বারে বারে দূরে সরিয়ে রেখে মানুষের বিপদে আপদে ছুটে গিয়েছেন ক্যানিংয়ের বাসিন্দা খোকন। সম্প্রতি আসামের বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রান বিতরণ করে ফিরেছেন ক্যানিংয়ের বাসিন্দা এই যুবক। ফের ত্রান সামগ্রী জোগাড় শুরু করে দিয়েছেন। অন্তত আরও একবার বন্যা কবলিত মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য যেতে চান তিনি।

সংবাদ পত্র, টিভি সহ বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে অসমের শিবসাগর জেলা সহ আশপাশের এলাকার বন্যার খবর জানতে পারেন খোকন। হাজার হাজার মানুষের দুরাবস্থা দেখে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে জাগে মনে। সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং থেকে আসামের শিবসাগর জেলায় ত্রান নিয়ে যাওয়াটা ছিল তাঁর কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে, সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ছয় যুবককে সঙ্গী করে শিবসাগর জেলার বন্যা কবলিত নিমাইযান, বেতবাড়ি, পানবেচা, নেপালি পট্টি এলাকায় পৌঁছে যান খোকন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে কয়েকশো পরিবারের হাতে মশারি, বিছানার চাদর, থালা, হাতা, খুন্তি, চামচ, বালতি, মগ, সাবান, পেস্ট, ব্রাশ সহ নানা ধরনের শুকনো খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দেন খোকন ও তাঁর সঙ্গীরা।

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের কিছু পরিচিত, আত্মীয়স্বজন, সমাজসেবী বন্ধু, বান্ধবদের থেকে সাহায্য নিয়ে এই ত্রান সামগ্রী জোগাড় করে ফেলেন খোকন। এরপর দিন দশেক আগে সকলে মিলে বেড়িয়ে পড়েন অসমের শিবসাগর জেলার উদ্দেশ্যে। খোকন বলেন, “ বন্যার একমাস কেটে গেলেও বন্যা কবলিত গ্রামগুলিতে এখনও ক্ষয়ক্ষতির বীভৎস দৃশ্য বর্তমান। স্কুল কলেজের বই খাতা সহ ইত্যাদি শিক্ষা সামগ্রী নষ্ট হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। এখনো বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন। প্রচুর ঘর বাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্কুল কলেজগুলো এখনও জল-কাদা অবস্থায়। চাষের জমি ও পুকুরের মাছ সবই ক্ষতিগ্রস্থ। আরও ত্রান সংগ্রহের জন্য ফিরে এসেছি। জিনিষপত্র জোগাড় হলে আবার যাওয়ার চেষ্টা করবো।”

তিনি আরও বলেন, “এখনো পর্যন্ত বেশ কিছু পরিবার রাস্তার ধারে তাবুতে বসবাস করছেন। তাঁদের বাড়িঘর জলমগ্ন রয়েছে। সমস্ত জিনিষপত্র, আসবাব নষ্ট হয়েছে বিধ্বংসী বন্যায়। এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এই বিপদে ওঁদের পাশে থাকাটা নিজেদের সামাজিক দায়িত্ব, কর্তব্য বলেই মনে করেছি।”

এই প্রথম এই ধরনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এমন নয়। আমপান, ইয়াস বিধস্ত সুন্দরবনবাসীর পাশেও একইভাবে ত্রান নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন খোকন। পাশাপাশি সর্বদা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এই যুবক।