যুদ্ধের আবহে মোদীর সঙ্গে পুতিন- পেজেশকিয়ান!

ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একত্রে তোলা একটিতে আলোড়ন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ব্রিকস বিজনেস ফোরামের (BRICS Business Forum) মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একত্রে তোলা একটি ছবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের হাত ধরে থাকতে দেখা যায় এবং তাঁদের পাশেই অবস্থান করছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন।চলতি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক টানাপোড়েনের মাঝে ভারত থেকে প্রচারিত এই এক ফ্রেমে বন্দি ছবি ও বৈঠক বিশ্ব কূটনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে।
​১. ভারত-ইরান সম্পর্ক ও কৌশলগত বার্তা
​পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে মোদী ও পেজেশকিয়ানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ফ্রেম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
​সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাণিজ্য: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী স্পষ্ট জানান যে বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে সমুদ্রপথ ও প্রণালীগুলির (বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী) নিরাপত্তা এবং নাবিকদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
​ইরানের সাথে ভারসাম্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে ভারতের প্রধানের এই ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ভারতের নিজস্ব স্বাধীন পথ রয়েছে।
​২. রাশিয়া ও পশ্চিমা চাপ সামলানোর বৈশ্বিক সমীকরণ
​ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
​রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠকে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
​ভারত নিজেকে কোন নির্দিষ্ট অক্ষের (Axis) অংশ হিসেবে উপস্থাপন না করে, সমস্ত পরাশক্তি ও অংশীদারদের সাথে সমমর্যাদায় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।


​৩. ব্রিকস মুদ্রা ও নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য (De-Dollarisation)
​মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম মূল আলোচ্য বিষয়।
​সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিনিময় ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর আহ্বান জানান।
​মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ব্রিকস দেশগুলোর ডলার-বিরোধী পদক্ষেপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ব্রিকস নেতারা একটি নতুন বহু-মেরুভিত্তিক আর্থিক কাঠামোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
​৪. ভারত বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রে
​এই ফ্রেম এবং বৈঠকের মধ্য দিয়ে ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy) ও বিশ্বগুরু হিসেবে উদীয়মান ভূমিকার চিত্র ফুটে উঠেছে। ভারত একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও ইরানের সাথে অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে সমানভাবে দরকষাকষি ও সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।
​বৈশ্বিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ভারত যে শান্তিস্থাপনকারী ও একটি স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মেরু হিসেবে ভূমিকা রাখছে, পেজেশকিয়ান-মোদী-পুতিন ট্রায়ো সেই বার্তাই বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।