বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের, ভিন্নতা সত্ত্বেও দিল্লির ঘোষণাপত্রে সহমত ব্রিকস-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো, এমনকি ইরান-আরব আমিশাহীও।

ভারত যৌথ ঘোষণাপত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা (Balancing Language) প্রস্তাব করে:
”Non-Western, but not Anti-Western” — রাশিয়া বা ইরানের পছন্দসই তীব্র আমেরিকা-বিরোধী অবস্থান এড়িয়ে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের ভারসাম্য রেখে সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে যেকোনো রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত ‘একতরফা সামরিক আগ্রাসন’ (Unilateral War/Action) এবং আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘনের একযোগে নিন্দা করা হয়।
দিল্লি ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু
১. একতরফা যুদ্ধের বিরোধিতা: যুদ্ধ বা সামরিক শক্তি দিয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। একতরফা আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি তৈরি করে।
২. কূটনীতি ও আলোচনা: সংলাপের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক শান্তি স্থাপন করা সম্ভব।
৩. সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বার্তা: আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে চলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে।
৪. বিশ্ব শাসনের সংস্কার: বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) গ্লোবাল সাউথ (Global South)-এর দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও সংস্কারের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।

এই সাফল্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূমিকা: বৈশ্বিক বিভাজনের মধ্যে ভারত প্রমাণ করেছে যে তারা গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরস্পরবিরোধী শক্তির মধ্যেও একটি নিরপেক্ষ এবং বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী।
ব্রিকস জোটের ঐক্য: ইরান ও আমিরাতের সম্মতি না মিললে যৌথ ঘোষণাপত্র ব্যর্থ হতো, যা ব্রিকস-এর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলতে পারত। ভারতের কৌশলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অর্থনৈতিক এজেন্ডা সুরক্ষা: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী এই জোট সরবরাহ শৃঙ্খল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শক্তি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যে নিজস্ব এজেন্ডায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে পেরেছে।