মোদীর ঝুলিতে ১৫ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নয়াদিল্লিতে শেষ হল ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতীয় কূটনীতির মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে ছিল বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার আনাগোনা। সোমবার ভোর থেকে একে একে রাজধানী ছাড়তে শুরু করলেন ব্রিকসের সদস্য দেশ, সহযোগী রাষ্ট্র এবং আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরা। সম্মেলন ঘিরে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর সোমবার দেশে ফেরেন বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্তে নাদাইশিমিয়ে ও তাঁর স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিন নাদাইশিমিয়ে। তাঁদের সঙ্গে দিল্লি ছাড়েন নাইজেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী বিয়াঙ্কা ওডুমেগউ-ওকুজু, বুরুন্ডির বিদেশমন্ত্রী এডুয়ার্ড বিজ়িমানা, ব্রাজ়িলের বিদেশমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ডিরেক্টর জেনারেল নোগোজ়ি ওকনজো-ইওয়েলা।
এর আগে রবিবারই দিল্লি ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস, থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-সহ একাধিক নেতা।
তবে সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে ছিলেন মোদী। শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর্ব। পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
শনিবার ইথিয়োপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালিদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহইয়ান এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। ওই দিনই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়।
রবিবারও ব্যস্ত ছিল মোদীর কূটনৈতিক সূচি। কাজ়াখস্তানের প্রধানমন্ত্রী কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, রামাফোসা, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট নাদাইশিমিয়ে, নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা এবং উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপোর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের তিন দিনে মোদীর ১৫টি মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। পাশাপাশি সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে বিশ্বশাসন, বহুপাক্ষিকতা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্মেলন শেষ হলেও দিল্লির এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিয়ে গেল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।