বাংলায় আগামীর Investment Plan কোথায়?

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ক্ষমতায় এসেই একাধিক কারখানার ভূমিপুজো করতে দেখা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। এবার আগামীর বিনিয়োগ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
আম্বানির সঙ্গে দেখা করতে মুম্বই যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে আসছেন গৌতম আদানি। ক্ষমতায় এসেই রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি মাসের শেষেই রাজ্যে আসার কথা গৌতম আদানির। অন্যদিকে, গণেশ চতুর্থীর পর মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানি এবং তাঁর ছেলে অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। আগামী দিনে বাংলায় বিনিয়োগের কী কী সম্ভাবনা, চলুন দেখে নেওয়া যাক-
শুভেন্দু জানান, সরকারে আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন বিনিয়োগের জন্য বাংলায় অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলায় আদানি তো বটেই, আম্বানিরাও আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গণেশ উৎসবের পর মুম্বই যাব। সেখানে মুকেশ আম্বানি এবং তাঁর ছেলে অনন্তের সঙ্গে দেখা করব। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি রাজ্যে আসবেন।
তৃণমূল জমানায় সিন্ডিকেট এবং কাটমানির কারণে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছিল বলেও মক শুভেন্দুর। স্বাস্থ্য, উৎপাদন শিল্প, প্রতিরক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান। শুভেন্দুর কথায়,’আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। নিউটাউন-রাজারহাটে প্রায় ২,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী।
বাংলার কোথায় কোথায় বিনিয়োগ?
দুর্গাপুজোর আগেই ৩৩টি সংস্থাকে জমি দেবে রাজ্য সরকার।
গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের চারটি প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে আমুলের আইসক্রিম তৈরির দু’টি কারখানার জন্য জমি।
পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (DRDO) প্রকল্প।
জাপানের বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশির সেমিকন্ডাক্টর কারখানা সম্ভাবনা।
দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর।
২০২৪ সালে ডিআরডিও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার তার কোনও উত্তর দেয়নি বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘আমি ওই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছি। জুনপুটেই প্রকল্পটি তৈরি হচ্ছে’।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্যে আগরওয়াল গোষ্ঠীর বিপণির সংখ্যা ১১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫০ করবে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগামী তিন বছরে বাংলায় প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সংস্থাটি। এর ফলে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়,’ওরা এখন আমাদের ফ্যাশন দুনিয়ার পরিচিত নাম। পুরুলিয়ায় ১০০ একর জমি কিনেছে আগরওয়াল গোষ্ঠী। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির জন্য আরও ১,০০০ একর জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার’।