এশিয়া কাপ জয়ের পর হরমনদের ‘বঞ্চনা’।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতীয় দল ট্রফি নেবে না— আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা হল না। মহিলাদের এশিয়া কাপ জয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার ঘটনায় ফের বিতর্ক তুঙ্গে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দাবি, নকভির পরিবর্তে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্টের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন রাখা হয়নি।
রবিবার দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে মহিলাদের এশিয়া কাপ জেতে ভারত। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় গ্যালারিতে দেখা যায়নি নকভিকে। পাকিস্তান ফাইনালে উঠতে না পারায় তিনি হয়তো আসবেন না বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার কিছু আগে তাঁকে বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্ল এবং সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার ঠিক পিছনে বসে থাকতে দেখা যায়।

রাজীব জানিয়েছেন, নকভির হাত থেকে ভারত যে ট্রফি নেবে না, তা আগেই জানানো হয়েছিল। নকভিও বিষয়টি জানতেন। তার পরেও কেন বিকল্প ব্যবস্থা করা হল না, উঠছে সেই প্রশ্ন।
বিসিসিআই সচিব সাইকিয়ার কথায়, ‘‘আমরা আবেদন করেছিলাম, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট যেন ট্রফি তুলে দেন। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখা হয়নি। তাই ট্রফি না নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না।’’
শুধু ট্রফি নয়, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ভারতীয় দল অংশ নেয়নি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া। তাঁর আশ্বাস, পুরুষ এবং মহিলা— দুই এশিয়া কাপের ট্রফিই দ্রুত দেশে ফিরবে।
গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ জেতার পরও নকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত। ফলে এ বারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে। পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানকে বয়কটের দাবি উঠেছিল ক্রিকেটমহলে। ভারতীয় দল মাঠে হ্যান্ডশেক বয়কট করলেও দ্বিপাক্ষিক নয়, বহুদলীয় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলছে।
কিন্তু বার বার যদি ভারতীয় দলকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়, তা হলে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা কতটা যুক্তিসঙ্গত— সেই প্রশ্নই ফের সামনে আসে। ১৯৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী পেসার মদন লালও প্রশ্ন তুলেছেন, এখনও কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলছে ভারত।