কুমিরটিকে পুকুরের জলে ভাসতে দেখে আতঙ্ক

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আবারও কুলতলীতে কুমিরের আতঙ্ক।গৃহস্থের পুকুরে ভাসতে দেখা গেল বিশালাকার কুমির উদ্ধার বনদপ্তর সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলীতে ফের কুমিরের আতঙ্ক। এবার মৈপিঠ কোস্টাল থানার রবিবারের বাজার এলাকার সিনি অফিস সংলগ্ন উত্তর বৈকুণ্ঠপুরে এক গৃহস্থের পুকুরে দেখা মিলল বিশালাকার একটি কুমিরের। কুমিরটিকে পুকুরের জলে ভাসতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বনদপ্তরের কর্মী, কুলতলির কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য এবং মৈপিঠ কোস্টাল থানার পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, w বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা আনন্দ ময়রার পুকুরে গতকাল পরিবারের সদস্যরা প্রথম বিশালাকার কুমিরটিকে দেখতে পান। পুকুরের জলে কুমিরের উপস্থিতি নজরে আসতেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিরটিকে দেখতে আশপাশের বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন।স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অনুমান, ঠাকুরান নদী থেকেই কুমিরটি কোনওভাবে গৃহস্থের পুকুরে ঢুকে পড়েছে। সুন্দরবনের নদী-খাঁড়িতে কুমিরের বিচরণ থাকায় জোয়ার-ভাটার সময় জলপথ ধরে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছ১qয় বনদপ্তরের উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুকুরটি ঘিরে ফেলা হয়। কুমিরটি যাতে কোনওভাবে লোকালয়ে বেরিয়ে এসে মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর উপর থেকে জাল ফেলে এবং একাধিক কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘ চেষ্টার পর কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা।উদ্ধারের পর কুমিরটিকে বনদপ্তরের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। বনদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর কুমিরটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলীর নদী ও লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং কোনও বন্যপ্রাণী দেখতে পেলে নিজে থেকে ধরতে বা তাড়াতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।