আশীর্বাদের দিয়া’ কর্মসূচিতে কলকাতার একাধিক ঘাট, গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং ধর্মীয় স্থান।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। এই দিনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ১ কোটি প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘আশীর্বাদের দিয়া’ কর্মসূচিতে কলকাতার একাধিক ঘাট, গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং ধর্মীয় স্থানও আলোয় ভরার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কলকাতার বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রায় ৫০ হাজার অন্নপূর্ণা প্রকল্পের উপভোক্তাকে নিয়ে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিয়ো সম্মেলনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারেন। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার প্রশাসনকে অনুষ্ঠানে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পদযাত্রা, সাইকেল ও মোটরবাইক মিছিল, পড়ুয়াদের নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরার কর্মসূচিও রয়েছে। মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এই আয়োজন ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।—১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। সেই দিনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক বড় কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনজীবনে মোদির ২৫ বছর পূর্তিকেও সামনে রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে রাজ্যজুড়ে ১ কোটিরও বেশি প্রদীপ জ্বালানো, কলকাতার বইমেলা প্রাঙ্গণে ৫০ হাজার অন্নপূর্ণা প্রকল্পের উপভোক্তাকে নিয়ে অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী ভবন আলোকিত করা। কর্মসূচিগুলি শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এবং বেশির ভাগ আয়োজন মহালয়ার আগেই শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের পরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ‘আশীর্বাদের দিয়া’ কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ কোটিরও বেশি পরিবার এই প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচিতে অংশ নেবে। কলকাতায় হুগলি নদীর তীরকে কেন্দ্র করে মূল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নবান্ন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রাইটার্স বিল্ডিং এবং কালীঘাট মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানও প্রদীপে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।কলকাতা পুরসভা হুগলির একাধিক ঘাট সাজানোর জন্য প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার প্রদীপ সংগ্রহ করছে। শহরের বিভিন্ন বিধায়ককে তাঁদের নিজেদের এলাকায় ব্যবহারের জন্য ৫০ হাজার করে প্রদীপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কলকাতা পুরসভা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ হুগলি নদীর তীরে ১০টিরও বেশি ঘাট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে বাজা কদমতলা ঘাটে একাই ১ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মা-এর ঘাট, কুমোরটুলি ঘাট, নিমতলা ঘাট, আর্মেনিয়ান ঘাট, ছোটেলাল কি ঘাট, দইঘাট, সুরিনাম ঘাট, মল্লিক ঘাট, বাবুঘাট, জগন্নাথ ঘাট এবং জাজেস ঘাটও আলোকিত করার তালিকায় রয়েছে।এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের উপভোক্তাদেরও। ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রায় ৫০ হাজার উপভোক্তাকে নিয়ে একটি বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনকে এই উপভোক্তাদের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মঞ্চেও ডাকা হতে পারে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই অনুষ্ঠানে ভিডিয়ো সম্মেলনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন বণিকসভা, আবাসন সংস্থা, হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, রেল এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের নিজেদের দফতর ও ভবনে প্রদীপ জ্বালানোর জন্য অংশ নিতে বলা হয়েছে।শুধু প্রদীপ বা জমায়েতেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজ্যের ৮০ হাজারেরও বেশি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে ‘বাচ্চন কে সপ্নোঁ কা ভারত’ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। ছবি আঁকা, লেখা, বক্তৃতা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের উন্নত ভারত সম্পর্কে পড়ুয়ারা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরবে। এর পাশাপাশি ‘নমো সেবা গাথা’, ‘আঙ্গনের উৎসব’ এবং ‘কাহানি বদলাওঁ কি’-এর মতো কর্মসূচিও রাখার পরিকল্পনা হয়েছে।সরকারি প্রকল্পের সুবিধার বিষয়টিও এই আয়োজনের অংশ। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষ কী কী সুবিধা পেয়েছেন, তা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘বিকশিত ভারত সংকল্প’ কর্মসূচির অধীনে ১৭ সেপ্টেম্বর সাইকেল ও মোটরবাইক মিছিল এবং পদযাত্রার আয়োজন করার কথাও জানানো হয়েছে।মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার মূল তারিখ হিসেবে ৭ অক্টোবরকে ধরা হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেই ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে ‘সেবা যাত্রা’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়েছে। ‘সেবা মেরা যোগদান’ এবং ‘সেবা সেতু অভিযান’-এর মতো কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।এর পাশাপাশি পর্যটন ও বন দফতর যৌথভাবে ১০৮ মিটার উচ্চতার ‘ভারত মণ্ডল’ নামে একটি শিল্পস্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’ এবং ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হিসেবে এটি তৈরি করার কথা। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘রাষ্ট্রীয় উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ’-এর পূর্বাঞ্চলীয় পর্ব আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কর্মসূচির একটি বিস্তৃত সময়সূচি তৈরি হয়েছে।