কুলতলীতে পালা বদলের জল্পনা

গুড়গুড়িয়া-ভুবনেশ্বরী পঞ্চায়েতে অনাস্থার উদ্যোগ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলীতে গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতার সমীকরণে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মৈপীঠ কোস্টাল থানার অন্তর্গত গুড়গুড়িয়া-ভুবনেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েতের দখল কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর বিভিন্ন মহলের,২৭ আসন বিশিষ্ট এই গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৮ জন এবং বিজেপির ৯ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৮টি আসন এবং বিজেপি ৯টি আসনে জয়ী হয়। এরপর তৃণমূলের জয়দেব প্রধান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন।
তবে বর্তমানে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছেন বিজেপির নয় সদস্য—বৈশাখী মিত্র, বাপন মাইতি, মানস বৈরাগী, দিলীপ ঘোষ, নিখিল দাস, তুহিন শুভ্র হালদার, স্বপন সিট, কৃষ্ণা মণ্ডল দাস এবং বাপি নস্কর।
এর পাশাপাশি তৃণমূলের পাঁচ সদস্য—রিতা পোদ্দার, পূর্ণিমা পাইক, নিধিরাম নস্কর, ইন্দা মণ্ডল প্রামাণিক এবং শোভারানি মণ্ডল মাইতি—অনাস্থা প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।ফলে ২৭ সদস্যের বোর্ডে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের পাঁচ সদস্য বিরোধীদের সঙ্গে থাকলে অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে কী ফল হয়, তা নিয়ে কুলতলী জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।তবে অনাস্থা প্রস্তাবের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, ভোটাভুটির দিনক্ষণ এবং চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে। গুড়গুড়িয়া-ভুবনেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। ফলে আপাতত সুন্দরবন লাগোয়া এই পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক পালাবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সর্বশেষ খবর পাওয়া ভারতীয় জনতা পার্টির এক সদস্য তিনি মোটামুটি অংশগ্রহণ করেননি বর্তমান প্রধানের বিপক্ষে মোট পড়ে ১৯ এবং প্রধানের পক্ষে ভোট পড়ে ৭ একজন অনুপস্থিত। আগামী দিনে কে প্রধান হয় এ নিয়ে রইলো জল্পনা।