রান্নাঘর চরম অপরিচ্ছন্ন। রান্নার সময় যত্রতত্র আরশোলা ও টিকটিকি ঘুরে বেড়ায় এবং খাবারে পড়ে বলে অভিযোগ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুর মহকুমার ধপধপি হাই স্কুলে মিড ডে মিলের অব্যবস্থা ও পরিকাঠামোগত নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের ব্যাপক বিক্ষোভ। বুধবার সকালে ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে বারুইপুরের সূর্যপুর ক্যাম্পের পুলিশকে ঘটনাস্থলে আসতে হয়।
অস্বাস্থ্যকর মিড ডে মিল: রান্নাঘর চরম অপরিচ্ছন্ন। রান্নার সময় যত্রতত্র আরশোলা ও টিকটিকি ঘুরে বেড়ায় এবং খাবারে পড়ে বলে অভিযোগ।
শৌচালয়ের বেহাল দশা: বিদ্যালয়ের শৌচালয়গুলি অত্যন্ত অপরিষ্কার এবং ব্যবহারযোগ্য নয়। একাধিক শৌচালয়ের দরজা নেই, যার ফলে বিশেষত ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
পানীয় জলের সংকট: স্কুলের জল খাওয়ার কলগুলি ভাঙা ও খারাপ অবস্থায় রয়েছে, ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পানীয় জলের সমস্যা প্রকট।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য
অভিভাবকদের ক্ষোভ: অভিভাবকদের দাবি, সন্তানদের পড়াশোনার জন্য স্কুলে পাঠানো হলেও মৌলিক পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার কোনো গুরুত্ব নেই। প্রধান শিক্ষককে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য তারা শৌচালয় ব্যবহার করতে পারে না এবং ভাঙা কলের কারণে জল পান করতে সমস্যা হয়।
শিক্ষকদের অবস্থান: লক্ষণীয় বিষয় হলো, স্কুলের শিক্ষকরাও মিড ডে মিল ও পরিকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের এই অভিযোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডঃ কল্যাণ পান্ডে জানান, এই ধরনের অভিযোগ তাঁর কাছে প্রথমবার এসেছে। মিড ডে মিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হয়—এই দাবি তিনি অস্বীকার করেন। তবে শৌচালয়ের অব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত খতিয়ে দেখে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।