দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া ও অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
সতর্কবার্তা জারি করা জেলাসমূহ
অরেঞ্জ/কমলা সতর্কতা (ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি)
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর: উপকূলীয় জেলা হওয়ায় সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় ৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওড়া ও কলকাতা: এই জেলাগুলিতে ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ইয়েলো/হলুদ সতর্কতা (ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাত)
উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও নদিয়া: ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া এবং বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান: বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের প্রতি নির্দেশনা
নিম্নচাপের কারণে উত্তর ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকবে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি ও পরামর্শ
কাঁচা ঘর ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তার: ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দুর্বল ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ খুঁটি/তার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ: সুন্দরবন এবং দিঘা, বকখালি, সাগরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে সমুদ্রের জলে নামতে নিষেধাজ্ঞা জারি ও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।
শহরাঞ্চলে জলজট: কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জল জমার এবং যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।