ভারতের উপর ১০০% শুল্ক আরোপের বিলে সই করে দিলেন ট্রাম্প! রাশিয়াকে ৫০০%, চাপে আরও ৯ দেশ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইরানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলে স্বাক্ষর করেছেন। ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ নামের এই ঐতিহাসিক বিলে স্বাক্ষরের ফলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী বা আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০% পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক (Secondary Tariffs) চাপানোর আইনি কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের হাতে চলে এলো।
আমেরিকায় উভয় কক্ষ—সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিপুল ভোটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন।
বিলের প্রধান মূলভাব ও গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ
রাশিয়ার ওপর ৫০০% শুল্ক: রাশিয়া থেকে সরাসরি আমেরিকায় আসা পণ্যের ওপর ৫০০% পর্যন্ত অতিরিক্ত ইম্পোর্ট ডিউটি বা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ ৫ আমদানিকারক দেশের ওপর ১০০% শুল্ক: রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী শীর্ষ ৫টি দেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রফতানিকৃত পণ্যে ১০০% পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে।
সংকটে যে ১০টি দেশ: বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের পর্যালোচনায় শীর্ষ ৫ দেশসহ রাশিয়ার মূল জ্বালানি গ্রাহক ১০টি দেশ চরম চাপে পড়েছে। এদের মধ্যে ভারত, চিন, হাঙ্গেরি, অজারবাইজান, ও সোভাকিয়া অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবিন্দু।
প্রয়োগে ৩০ দিনের সময়সীমা: বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো সময় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১ মাসের মধ্যে ১০০% শুল্ক কার্যকর করতে পারেন।
ভারতের ওপর প্রভাব ও বর্তমান প্রতিক্রিয়া
বাণিজ্যিক ক্ষতি ও রফতানি খাত:
আমেরিকায় ভারত থেকে যাওয়া টেক্সটাইল, ফার্মা (ওষুধ), আইটি পরিষেবা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের ওপর যদি ১০০% শুল্ক কার্যকর হয়, তবে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বহু গুণ বেড়ে যাবে। এতে ভারতীয় রফতানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ভারতের স্পষ্ট অবস্থান:
ভারত শুরু থেকেই জানিয়ে এসেছে যে, ১৪০ কোটি দেশবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংস্থান ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব রকম কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের হাতে নির্বাহী বিশেষ ছাড় (Exemption Waiver):
নতুন বিলে প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ সংকট এড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলে নির্দিষ্ট কোনো দেশকে এই ১০০% শুল্ক থেকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক ছাড় দিতে পারবেন।
এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি কাটছাঁট করতে ওয়াশিংটন অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করল।