জ্ঞানেশ কুমারের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ সাকেতের, তোলপাড় রাজনীতি

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বর্তমান দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম কোথায় ছিল? এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে দাবি করেছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম দিল্লির বর্তমান এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু ২০০২-২০০৩ সালের আগের এসআইআর তালিকায় উত্তরপ্রদেশ, কেরল এবং দিল্লিতে তাঁর নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখানেই সাকেতের প্রশ্ন-যদি কোনও ভোটারের বর্তমান তথ্যকে আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা না যায়, তাহেল তাঁকে আনম্যাপড হিসাবে চিহ্নিত করার নিয়ম রয়েছে কিনা, এবং সেই নিয়ম জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে?
ইলেকশন কমিশন সূত্রের দাবি,
জ্ঞানেশ কুমারের নাম তাঁর বাবার নামের সঙ্গে মিলিয়ে আগের এসআইআর-র সঙ্গে ম্যাপ করা হয়েছে
এতে কোনও অসঙ্গতি নেই। অর্থাৎ, প্রশ্ন একটাই-২০০২ সালের এসআইআর-এ জ্ঞানেশ কুমারের নিজের নামে এন্ট্রি ছিল, নাকি বাবার নামের ভিত্তিতে তাঁর বর্তমান ভোটার রেকর্ড ম্যাপ করা হয়েছে?
২০০২ সালের SIR কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দিল্লিতে চলা SPECIAL INTENSIVE REVISION বা SIR-এর প্রক্রিয়ায় বর্তমান ভোটারদের তথ্য আগের এসআইআর-এর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। দিল্লির নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ১০ জানুয়ারি ২০০২-এ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুসন্ধানের ব্যবস্থা রয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, কেউ যদি ২০০২ সালের পরে অন্য রাজ্য থেকে দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করেন, তাহলে তাঁর নাম দিল্লির ২০০২ সালের তালিকায় না-ও থাকতে পারে; সেক্ষেত্রে নিজের রাজ্যের আগের এসআইআর তালিকায় তথ্য খুঁজে নিতে হবে। অর্থাৎ, শুধু দিল্লির ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই কোনও ব্যক্তির ভোটার হিসেবে অস্তিত্ব ছিল না-এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না। কারণ এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আগের তালিকা, অন্য রাজ্যের রেকর্ড এবং আত্মীয়ের তথ্য-সবই প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
সাকেত গোখলের প্রশ্ন ঠিক কী?
সাকেত গোখলে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, দিল্লির বর্তমান এসআইআর ড্রাফ্ট ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে-Gyanesh Kumar, son of Subodh Kumar. গোখলের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি উত্তরপ্রদেশ, কেরল এবং দিল্লির আগের SIR তালিকায় একই নাম এবং একই পিতৃপরিচয় খুঁজেছেন। তাঁর দাবি, সেখানে তিনি এমন কোনও এন্ট্রি খুঁজে পাননি। এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন— যদি আগের এসআইআর-এর সঙ্গে বর্তমান ভোটার এন্ট্রি ম্যাপ না করা যায়
তাহলে সেটিকে কি লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি হিসেবে চিহ্নিত করার কথা নয়?
আরও প্রশ্ন তোলেন-জ্ঞানেশ কুমারকে কি এই কারণে কোনও নোটিস দেওয়া হয়েছিল?গোখলে আরও জানতে চান, কোন রাজ্যের আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের বর্তমান ভোটার রেকর্ড ম্যাপ করা হয়েছে এবং ২০০২-০৩ সালে তিনি আদৌ কোথাও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন কি না।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী?এখানেই আসে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সোমবার প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সূত্র গোখলের দাবির সঙ্গে একমত নয়। কমিশনের বক্তব্য়- জ্ঞানেশ কুমারের নাম তাঁর বাবার নামের সঙ্গে মিলিয়ে আগের SIR-এর সঙ্গে ম্যাপ করা হয়েছে। ফলে কোনও অসঙ্গতি নেই। তাঁর বাবা উত্তরপ্রদেশে রয়েছেন। অর্থাৎ কমিশনের ব্যাখ্যা যদি সঠিক হয়, তাহলে জ্ঞানেশ কুমারের বর্তমান ভোটার রেকর্ডকে শুধুমাত্র তাঁর নিজের নাম দিয়ে খোঁজা যথেষ্ট নয়। পারিবারিক বা রিলেটিভ-ভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমেও আগের এসআইআর-এর সঙ্গে ম্যাপিং হতে পারে।
গোটা বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে-
নাম নেই আর ম্যাপিং নেই -দুটো কি একই?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে
কোনও পুরনো ভোটার তালিকায় একজন ব্যক্তির হুবহু একই নামের এন্ট্রি পাওয়া যাচ্ছে না-এটা এক বিষয়
আর সেই ব্যক্তির বর্তমান ভোটার রেকর্ডের সঙ্গে আগের SIR-এর কোনও গ্রহণযোগ্য রেকর্ড ম্যাপ করা যাচ্ছে না-এটা অন্য বিষয়। সাকেত গোখলের প্রশ্ন মূলত দ্বিতীয় বিষয়টিকে ঘিরেই। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে, জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষেত্রে তাঁর বাবার নামের মাধ্যমে আগের এসআইআর-এর সঙ্গে ম্যাপিং হয়েছে।
সাকেত গোখলে তাঁর পোস্টে আরও একটি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন জ্ঞানেশ কুমার ভারতের নাগরিক কি না। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ১৯৮৮ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের আইএএস অফিসার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর কর্মজীবনে কেরল, কেন্দ্র এবং দিল্লিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে। এই কারণেই গোখলে তাঁর প্রশ্নে উত্তরপ্রদেশ, কেরল এবং দিল্লি-এই তিন জায়গার আগের SIR রেকর্ডের কথা তুলেছেন। একদিকে গোখলের দাবি-উত্তরপ্রদেশ, কেরল এবং দিল্লির আগের এসআইআর তালিকায় একই নাম ও পিতৃপরিচয়ের কোনও রেকর্ড তিনি খুঁজে পাননি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে-রেকর্ড রয়েছে, এবং তা তাঁর বাবার নামের মাধ্যমে ম্যাপ করা হয়েছে।
তাই এখন নজর থাকবে সেই পুরনো SIR রেকর্ড এবং ম্যাপিংয়ের পদ্ধতির দিকে। কারণ এই বিতর্কের নিষ্পত্তি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নয়—কোন ভোটার রেকর্ডের সঙ্গে কোন তথ্য কীভাবে যুক্ত করা হয়েছে, সেই নথিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।