ভাঙড় কলেজে চরম অশান্তি

ভাঙড় কলেজে প্রবল উত্তেজনা, দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা :ভাঙড় কলেজে সোমবারের অশান্তির রেশ কাটল না মঙ্গলবারও। কলেজ চত্বরের পর এবার সেই উত্তেজনার আঁচ এসে পড়ল বারুইপুর আদালত চত্বরেও। একদিকে ABVP-র ছাত্রনেতাকে ফের আক্রান্ত করার অভিযোগ, অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে SFI-এর অবস্থান-বিক্ষোভ। দুই ছাত্র সংগঠনের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে মঙ্গলবার কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর আদালত চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ভাঙড় কলেজে সোমবার থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় দু’জন SFI কর্মীকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কলেজ চত্বরে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া দু’জনের মধ্যে রয়েছেন SFI কনভেনর শাহরুখ আখতার আলি মোল্লা। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র। অন্যজন আসলাম হাবিব। তিনি প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং সম্প্রতি SFI-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে ভাঙড় কলেজের ঘটনার তদন্তে এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার তাঁদের বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হয়। আর সেখানেই শুরু হয় নতুন করে বিক্ষোভ। গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিতে আদালত চত্বরে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন SFI কর্মীরা। তাঁদের দাবি, যে ছাত্রনেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং তাঁদের মুক্তি দিতে হবে।

SFI কর্মীদের বিক্ষোভ চলাকালীন আদালত চত্বরে উপস্থিত হন ABVP-র প্রতিনিধিরাও। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি স্লোগান। একদিকে গ্রেফতার হওয়া SFI কর্মীদের মুক্তির দাবি, অন্যদিকে ভাঙড় কলেজে ABVP-র ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদ—এই দুই অবস্থানকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয়ে পড়ে দুই ছাত্র সংগঠন।

এর মধ্যেই ABVP-র এক ছাত্রনেতাকে ফের আক্রান্ত করার অভিযোগ সামনে আসে। ABVP-র অভিযোগ, কলেজের ঘটনার পর মঙ্গলবারও তাঁদের এক ছাত্রনেতাকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, SFI-এর পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, তাঁদের কর্মীদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিতেই তাঁরা আদালত চত্বরে অবস্থান করছেন। ফলে দুই ছাত্র সংগঠনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য বারুইপুর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। আদালত চত্বরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

সব মিলিয়ে সোমবার ভাঙড় কলেজে যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত, তার রেশ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকল। কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে সেই উত্তেজনা পৌঁছে গেল বারুইপুর আদালত চত্বরেও। চার ছাত্রনেতার গ্রেফতারি, তাঁদের মুক্তির দাবিতে SFI-এর বিক্ষোভ এবং তার পাল্টা ABVP-র স্লোগান—সব মিলিয়ে দিনভর চড়ল উত্তেজনার পারদ।

এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। চারজনের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে আর কারও নাম উঠে আসে কি না এবং ভাঙড় কলেজের অশান্তির ঘটনায় আরও গ্রেফতারি হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই ছাত্র সংগঠন-সহ সংশ্লিষ্ট মহল।