বাবা মাকে পথে বসাল ছেলে

বৃদ্ধ বাবা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল সরকারী চাকুরীজীবী ছেলে

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা :টাকা পয়সা ও জমিজায়গা লিখে নিয়ে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে ভিটেছাড়া করার অভিযোগ উঠল রাজ্য সরকারি পুলিশ কর্মী ছেলের বিরুদ্ধে।এমনই অমানবিক ঘটনাটি ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বৃদ্ধ বাবা ভজন সরকার ও তাঁর স্ত্রী অনিমা সরকার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে একটি তাবুর নীচে বাসস্ট্যান্ডে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভজন সরকারের গলায় টিউমার সংক্রান্ত জটিল অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন এবং নলের সাহায্যে তরল খাবার গ্রহণ করেন। এই শারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়েই তাঁর ছোট ছেলে গৌরাঙ্গ সরকার—যিনি রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত—প্রতারণার মাধ্যমে সমস্ত সহায়-সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেন বলে অভিযোগ।

এমনকি ব্যাংকে থাকা সমস্ত অর্থ ও সম্পত্তি ছলে বলে কৌশলে হস্তান্তর করে নেয় সে। অভিযোগ, কিছুদিন পরেই গৌরাঙ্গ ও তার স্ত্রী অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়িকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। অসহায় দম্পতির বড় ছেলে ভরত সরকার প্রতিমা তৈরির কাজ করেন এবং সামান্য একটি ঘরে আলাদা থাকেন। ফলে কোনও উপায় না পেয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে নবদ্বীপ ঘাট সংলগ্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে তাবু খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।ঘটনাটি প্রকাশ্যে প্রথম আসে স্থানীয় সমাজসেবী শুভশ্রী ভৌমিকের মাধ্যমে। তিনি দরিদ্র মানুষদের খাবার বিতরণ করতে গিয়ে বাসস্ট্যান্ডে ভজন সরকারকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়।

শুভশ্রীদেবীর অভিযোগ, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশকর্মী গৌরাঙ্গ সরকার ও তার স্ত্রী তাঁকে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য ক্রমাগত ফোন করে চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃদ্ধা মা অনিমা সরকার জানান, “আমাদের সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়ে আজ রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আমরা আমাদের ভিটেমাটি এবং ভরণপোষণের খরচের অধিকার ফিরে পেতে চাই।” স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্ত রাজ্য সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিক এবং অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে তাঁদের নিজস্ব ভিটেমাটিতে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নবদ্বীপ থানার পুলিশ এসে বৃদ্ধ দম্পতিকে তার বড় ছেলের ঘরে প্রাথমিকভাবে তুলে দেয়। পুলিশ কর্মী ছোট ছেলের বিষয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে পুলিশ।