‘বিজেপিকে সুবিধা দিতে ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ’, সিইসি-কে গ্রেফতারের দাবি অভিষেকের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের। বুধবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের কারচুপি হরিয়ানা ও বিহারেও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিষেকের দাবি, SIR-কে ঘিরে তৃণমূল যে অভিযোগ আগে তুলেছিল, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর তা আরও জোরালো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানা এবং বিহারেও একই কাজ হয়েছে।’’
সিইসি-র বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলে অভিষেক বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (LOC) জারি করা উচিত। এমনকি তাঁকে গ্রেফতারের দাবিও জানান তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই সিইসি কাজ করেছেন এবং বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগের প্যানেল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বিরোধীরা লোকসভা ও রাজ্যসভায় সিইসি-র বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব এনেছিল। কিন্তু কোনও কারণ না দেখিয়েই তা খারিজ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিভক্ত রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
এই আবহে অভিষেকের আরও অভিযোগ, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে নিয়োগ পাওয়া কোনও ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর এবং বিজেপি নেতাদের হয়েই কাজ করবেন।’’
এর মধ্যেই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও কমিশন সূত্রের দাবি, SIR-সহ সমস্ত সিদ্ধান্তই তিন সদস্যের কমিশনের অনুমোদন নিয়ে সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির আক্রমণের মুখে ফের চাপে নির্বাচন কমিশন। সিইসি-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই SIR-এর সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।