জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাস!

বিজেপি প্রার্থীর বিভ্রান্তিকর হলফনামা তথ্য ঘিরে চাঞ্চল্য

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : জন্মই হয়নি তখনও। অথচ সেই সময়েই নাকি দিয়ে ফেলেছেন মাধ্যমিক পরীক্ষা। শুনতে অবাক লাগছে? অবাক লাগাটাই স্বাভাবিক। কারণ নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামায় থাকা তথ্য ঘিরেই উঠেছে এই বিস্ফোরক প্রশ্ন। বয়সের হিসেব একদিকে, আর শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য অন্যদিকে। দুটো তথ্য পাশাপাশি রাখতেই তৈরি হচ্ছে এমন এক হিসেব, যেখানে জন্মের আগেই মাধ্যমিক দিয়ে ফেলছেন হাসিরানি রথ। কীভাবে সম্ভব এই অসম্ভব? আর এই তথ্য নিয়েই এবার কেন আদালতের দরজায় পৌঁছে গেল নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন?

নির্বাচন কমিশনে হাসিরানি রথ যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, সেখানে তাঁর বর্তমান বয়স উল্লেখ করা হয়েছে, ৬০ প্লাস অর্থাৎ ৬০-এর বেশি। এই হিসেব অনুযায়ী, তাঁর আনুমানিক জন্ম সাল হওয়া উচিত ১৯৬৫ বা ১৯৬৬ সাল। ওই হলফনামাতেই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় লেখা হয়েছে, ১৯৬৫ সালে তিনি চৌখালি গঙ্গা পদ্মা মিলন বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ঠিক এখানেই উঠছে প্রশ্ন। কীভাবে জন্মের আগে মাধ্যমিক দিয়ে দিলেন হাসিরানি রথ।

শুধুমাত্র এখানেই শেষ নয়। হাসিরানি রথের নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি ১৯৬৫ সালে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ওই স্কুল ১৯৬৩ সালে পথ চলা শুরু করে। ১৯৬৩ সালে ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হত। ১৯৭৩ সালের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন পায় ওই স্কুল।

স্কুলে ১৯৭৩ সালে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর অনুমোদনের আগে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী ওই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে গেলেন? এমনই প্রশ্ন তুলছে কংগ্রেস। মনোনয়ন বাতিল করার আর্জি জানানো হয়। এবার জল গড়াল আদালতে। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ। হলফনামায় বিজেপি প্রার্থীর জন্ম এবং মাধ্যমিক পাশের সাল নিয়ে বিতর্কে বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী ঋজু ঘোষাল। নির্বাচন কমিশন তাঁর হলফনামা যাচাই করেছে। অথচ এই বিষয়টি নিয়ে তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি।

জন্মের সাল নিয়ে প্রশ্ন, মাধ্যমিক পাশের সাল নিয়েও প্রশ্ন, এবার সেই প্রশ্নই পৌঁছে গেল আদালতের দরজায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যদি সত্যিই ভুল হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রশ্ন উঠবে প্রার্থীপদ নিয়েও। আর যদি আদালতে এই তথ্যের অসঙ্গতি প্রমাণিত হয়, তাহলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথের ভবিষ্যৎ কী হবে? জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাশের এই হিসেব কি শেষ পর্যন্ত আদালতের পরীক্ষাতেও টিকবে, নাকি হলফনামার এই তথ্যই নন্দীগ্রামের ভোটের লড়াইয়ে নতুন মোড় এনে দেবে?