SIR নিয়ে খোদ কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন!

SIR নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠছে খোদ নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলেই!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার নামে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেই এসআইআর নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠছে খোদ নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলেই। একটা নাম মুছে গেল ভোটার তালিকা থেকে। আবার একটা নাম ঢুকল নতুন করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই নাম বাদ দেওয়া বা নতুন নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্তটা নিল কে? দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় নাম তোলা-বাতিল নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ। আর কেনই বা কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুজনকে বারবার আপত্তি জানাতে হল? ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি। একদিনেই চারবার। তাহলে এসআইআরের নেপথ্যে ঠিক কী হয়েছিল? এসআইআর কি শুধুই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া, নাকি এর আড়ালেই লুকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বড় কোনও অস্বস্তিকর প্রশ্ন?

এক সময় নাকি সবাইকে উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমার সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন সেই তিনির উপরই উঠছে আঙুল। কী কী অভিযোগ নেই তাঁর বিরুদ্ধে? বিহার মডেল পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে পক্ষপাতদুষ্ট ভাবে প্রয়োগ হয়েছে নাকি তাঁরই নির্দেশে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য থেকে কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে শাসকের অঙ্গুলিহেলনে কাজ। সবই রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ঝুলিতে। অভিযোগের তির যার দিকে, তিনি হলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁকে ঘিরেই ঝড় উঠেছে সারা দেশ ব্যাপী। এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর জন্য সংসদে উঠেছিল প্রস্তাব। এক ধাপ এগিয়ে এবার উঠল গ্রেফতারির দাবি। উঠল নতুন করে ভোটের দাবিও।

বুধবার সকালে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশিকা নিয়ে এক দিনেই চার বার আপত্তি জানান তাঁরা। কিন্তু কোনও বারেই তাঁদের আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানান সঁধু এবং জোশী। যে তথ্য সামনে উঠে আসায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা। সেই সঙ্গে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর তোলা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ বিতর্কের ঝড় তুলল দেশের রাজনীতিতে। গত মার্চে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সাত দফা অভিযোগ তুলে অপসারণের নোটিস স্বাক্ষর করেছিলেন।

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১)শাসকের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করা
২)কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ
৩)বিহার মডেল পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে প্রয়োগ
৪)তিনি পক্ষপাত ও বৈষম্য করেছেন
৫)জ্ঞানেশের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
৬)সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা
৭)নির্বাচনী প্রতারণার তদন্তে বাধা দেওয়া

সঁধু এবং জোশীর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে। নতুন ভোটারদের নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তকে অবৈধ এবং অনুমোদিত বলে দাবি করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার।

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

১.ভোটার তালিকায় বেআইনি বদল
২.ফর্ম ৬-এ সম্মতি ছাড়া নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা
৩.কমিশনারদের না জানিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৪.অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের না জানিয়েই ফাইল পাস
৫.ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম
৬.সীমা খান্নার মাধ্যমে ভোটার তালিকার ডিজিটাল ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে সরগরম দেশের রাজনীতি। এই বিতর্কে জড়িয়ে গেল সীমা খান্নার নামও। কে ইনি? কীভাবে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে জুড়ল সীমার নাম? কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না। অভিযোগ ওঠে সীমা খান্নার মাধ্যমে ভোটার তালিকার ডিজিটাল ডেটাবেসের উপর একক নিয়ন্ত্রণ বা কেন্দ্রীয়করণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মমতার তৃণমূলের দাবি, অভিষেক গত ডিসেম্বরেই সীমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২৭ ডিসেম্বর অভিষেক বলেছিলেন, বুথ লেভেল অফিসারদের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করতে হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে ইআরও এবং এইআরও-দের দুমাস সময় লেগেছে। অথচ ইলেকশন কমিশন একই দিনে, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এই পরিসংখ্যান তৈরি করে ফেলে। কোন সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক। দুই নির্বাচন কমিশনার সঁধু এবং জোশী সেই সীমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় মমতা তৃণমূলের দাবি, তারা যে অভিযোগ তুলেছিল, তাতেই সিলমোহর পড়ল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেস কুমারের গ্রেফতারি দাবি করেন।

এসআইআর ঘিরে প্রশ্ন। কমিশনের অন্দরেই আপত্তি। আর সব অভিযোগের কেন্দ্রে জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ, সংসদে উঠেছে অপসারণের দাবি, এবার উঠছে গ্রেফতারির দাবিও। তাহলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত হবে? আর জবাবদিহি করবেন কে? আপনাদের কী মনে হয়, জানাবেন কমেন্ট বক্সে।