“জ্ঞানেশ কুমার সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী”

‘১৩ কোটি ভোটার বাদ’! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা অভিজিৎ দীপকের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি তুললেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৩ কোটিরও বেশি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

দীপকের দাবি, ‘‘১৩ কোটির বেশি ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও ছোট সংখ্যা নয়।’’ তাঁর বক্তব্য, এই সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় ১৩-১৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের ভোটের ব্যবধানের সঙ্গে এই সংখ্যার তুলনাও টেনেছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটার তালিকা থেকে এত নাম বাদ দেওয়ার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে কি না।

এখানেই থামেননি CJP নেতা। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার নির্বাচনী ক্ষেত্রেও ভোটার সংখ্যা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র থেকে ৫০ হাজার, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের কেন্দ্র থেকে এক লক্ষ এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের কেন্দ্র থেকে ৪০ হাজার ভোট বাদ দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। কেরলেও ভোটার বাদ দেওয়ার প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ দীপকের। তবে এই দাবিগুলির পক্ষে তিনি কোনও স্বাধীন প্রমাণ দেননি।

এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তদন্তমূলক প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সহ সমস্ত সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। কমিশন আরও জানিয়েছে, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হল মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত বা অযোগ্য নাম শনাক্ত করে ভোটার তালিকা সংশোধন করা। ফলে ১৩ কোটি নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ যে ১৩ কোটি বৈধ ভোট চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে, তা নয়।