ধূপগুড়ি বাজারে জল-যন্ত্রণা

রাজস্ব আদায়ে তৎপর প্রশাসন বাজারের ন্যূনতম পরিষেবা দিতে এতদিনেও ব্যর্থ কেন ?

সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা : পুজোর মুখে হাঁটু জল বাজার চত্বরে,কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েও নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল।কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। অথচ পুজোর মুখে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু জলে ডুবছে ধূপগুড়ি বাজার।কাপড়পট্টি-সহ বাজারের একাধিক গলিতে নোংরা জল জমে থাকায় কার্যত দুর্ভোগের মধ্যে ব্যবসা চলছে। শারদোৎসবের আগে বাজারে যখন বিক্রি বাড়ার কথা,তখন জল-কাদা আর বেহাল পরিকাঠামোর কারণে ক্রেতা কমছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।প্রশ্ন উঠছে, রাজস্ব আদায়ে তৎপর প্রশাসন বাজারের ন্যূনতম পরিষেবা দিতে এতদিনেও ব্যর্থ কেন ?ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে বাজারের নিকাশি নালা গুলি আবর্জনায় বুজে রয়েছে।ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জল বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।কাপড়পট্টি – সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান জল জমে যায়।নোংরা জল পেরিয়েই ব্যবসায়ীদের দোকানে পৌঁছাতে হচ্ছে। পুজোর মরশুমে এই পরিস্থিতি বেচাকেনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।শুধু নিকাশি নয়,পানীয় জল নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি,মূল বাজার এলাকায় দিনে বড়জোর ১০ মিনিট জল সরবরাহ করা হয়। হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও ক্রেতার তুলনায় এই সরবরাহ কার্যত অপ্রতুল।বাজারের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিও রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হয়।ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাজ কিশোর সিং বলেন অল্প বৃষ্টিতেই বাজারের ভেতর জল জমে যাচ্ছে।পুজোর মুখে বাজারের বেহাল দশার কারণে সঠিক ভাবে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছে না।প্রশাসনের উচিত দ্রুত সমস্যার সমাধান করা।জানা যায় বাজারের পরিকাঠামোর সমস্যা নিয়ে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা মাপজোক করে গেলেও এখনও কার্যকর কাজ শুরু হয়নি।ইতিমধ্যে নবনির্বাচিত বিধায়ক,মহকুমাশাসক এবং জেলা পরিষদের আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।কিন্তু অভিযোগ,আশ্বাস মিললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির রামচন্দ্র বসাক বলেন,‘‘প্রশাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’’ব্যবসায়ীরা পুজোর আগে দ্রুত নিকাশি সংস্কার,নিয়মিত পানীয় জল, পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের বক্তব্য, রাজস্ব আদায় যদি নিয়মিত হতে পারে,তবে বাজারের মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন। তাঁরা দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছে।