কেন বন্ধ স্কুল ? রিপোর্ট তলব

ইংরেজবাজার শহরের বি এস রোড (সেন্ট্রাল স্কুল ফর গার্লস জুনিয়র হাই) ওই স্কুলটিতে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র সাতজন৷ শিক্ষিকা রয়েছেন চারজন৷

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে ৯৩৩টি প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য শিক্ষা দফতর৷ এই স্কুলগুলি বন্ধের মূল কারণ, পড়ুয়ার অভাব৷ বন্ধ স্কুল ভবন ও স্কুলের সম্পত্তি বিকল্প ব্যবহারের জন্য আগেই নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য সরকার৷ শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের এহেন সিদ্ধান্ত অনেকে মেনে নিতে পারেননি৷ কিন্তু নিজেদের সংস্কারমূলক কাজের ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সেই নির্দেশিকায় সিলমোহর দিয়েছেন খোদ স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন৷ শুধু তাই নয়, স্কুলের সম্পত্তি ব্যবহারযোগ্য রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে৷ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ৯৩৩টি স্কুলই কি শেষ? নাকি এর পরেও কোনও স্কুল পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ বিশেষ করে মালদা শহরের একটি স্কুলের পরিস্থিতি দেখে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে৷ ইংরেজবাজার শহরের বি এস রোড (সেন্ট্রাল স্কুল ফর গার্লস জুনিয়র হাই) ওই স্কুলটিতে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র সাতজন৷ শিক্ষিকা রয়েছেন চারজন৷ স্কুলের তিনতলা ভবন, ছ’টি ক্লাসরুম, বিদ্যুৎ, পানীয় জল সহ পরিকাঠামো সবই রয়েছে৷ কিন্তু পড়ুয়ারা স্কুলে আসে না৷ শিক্ষিকারা স্কুলে আসেন, হাজিরা দিয়ে খাতায় সই করে চলে যান৷ আর প্রধান শিক্ষিকা! তিনি কার্যত চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর ভূমিকা পালন করেন৷ স্কুল খোলেন, বন্ধ করেন, এমনকি দরজা-জানালাও বন্ধ করতে হয় তাঁকেই৷ সেই ছবি উঠে এল R PLUS NEWS এর ক্যামেরায়৷

কার্যত প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম জানান শিক্ষিকা যারা রয়েছেন তারা এই স্কুলে এসে সই পড়ে চলে যায়। আর আসে না কার্যত স্কুল ফাঁকা আমাকে স্কুলে বসে থেকে যাবতীয় কাজ করতে হয়। স্কুল এগারোটা থেকে চারটা অব্দি খোলা রাখার কথা সে ক্ষেত্রেও মাঝেই স্কুল বন্ধ হয়ে যায় l

মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের ডিআই মলয় মন্ডল জানান রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর থেকে একটি নোটিশ এসেছে যেখানে বলা হয়েছে যে একটি কমিটি জেলা স্তরে করতে হবে সেই কমিটি তদন্ত করে দেখবেন আর কটা স্কুল ছাত্র ছাত্রী শূন্য হয়ে রয়েছে l যেখানে ছাত্র-ছাত্রী শূণ্য সেই ধরনের সরকার অনুমোদিত সাহায্য প্রাপ্ত সে সমস্ত স্কুলের সম্পত্তির ক্ষতি দেখা হবে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা স্তর থেকে সমীক্ষার রিপোর্ট রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরে পাঠাতে হবে।

দক্ষিণ মালদা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জান বিগত দিনে তৃণমূল সরকার থাকাকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে উঠে দিয়েছি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী প্রার্থী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে গিয়েছিল তৃণমূলের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে উঠিয়ে দিয়েছে। আজকে আমাদের সরকার আশাতে এই সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে l