আমার বাবা আদর্শবাদী: মিলনকন্যা

জেল হেফাজতে থাকলেও বাবাই আদর্শ, সমাজ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট মিলন কন্যার

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ যে যাই বলুক না কেন মেয়ে জানে বাবা আদর্শের লড়াই লড়ছেন। এই ছোট্ট মেয়েটি হল নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের কন্যা। বয়স ১৫। এখনও সাবালকই হয়নি সে। কিন্তু বাবার প্রতি ভালোবাসা , রাজনীতির সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও তার কথা বলার ধরণ মন কেড়েছে নেটিজেনদের। বাবা জেল হেফাজতে, এটা তার কাছে কোনও লজ্জার নয়। বাবা হিসাবে মিলন প্রধান মেয়ের কাছে রিয়েল হিরো। তাই মেয়েই যেন দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে বাবার হয়ে লড়াই করার। জেল হেফাজতে থেকেও মিলন প্রধান যেভাবে লড়ছেন তাঁর সব থেকে বড় শক্তি হল পরিবার। সমাজমাধ্যমে দুটি ভিডিও বার্তা থেকে একথা স্পষ্ট। কেন বলছি, ভিডিওটা একটু ধৈর্য্য ধরে দেখুন তাহলে বুঝবেন জেল হেফাজতে থাকা পরিবারের প্রধানের জন্য কীভাবে লড়ে যাচ্ছেন তাঁর মেয়ে ও স্ত্রী। রাজনীতির ইতিবৃত্তে না থেকেও কীভাবে প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা।

নন্দীগ্রাম বরাবরের জন্য হাইভোল্টেজ আসন। একথা আর প্রমাণ করার দরকার নেই। তাইতো উপনির্বাচনেও যেভাবে নন্দীগ্রামের মাটি তেতে উঠেছে তাতে করে এই আসনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে অনেকেই। না হলে কি ছোট্ট অরুণিমা জেল হেফাজতে থাকা বাবার হয়ে সমাজমাধ্যমে এভাবে বার্তা দিতে পারে। বছর পনেরোর অরুণিমা প্রধানের একটি ভিডিয়ো বার্তা এই মুহূর্তে ভাইরাল। বাবার জন্য আওয়াজ তুলেছে সে। গোটা গোটা বাংলা শব্দে নন্দীগ্রামবাসীর কাছে বাবার হয়ে আওয়াজ পৌঁছানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে নিজের কাঁধে। কেন তার বাবা জেলে গেছে তাও যেন ছোট্ট অরুণিমার কাছে খুব স্পষ্ট। এমনকি তাঁর মুখে শুভেন্দু অধিকারীর নামও শোনা গেছে ভিডিও বার্তায়। এতটুকুও ভয় ছিল না অরুণিমার চোখে মুখে।

এখানেই শেষ নয় অরুণিমা কাদের দিকে আঙুল তুলেছেন, কারা নন্দীগ্রামে নাম ভাঙিয়ে নেতা হয়েছেন। কাদের উদ্দেশ্যে অভিযোগ শানিয়েছে অরুণিমা। রাজনৈতিক বাতাবরণে বেড়ে ওঠা। ঠাকুরমার ঝুলির গল্পের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আন্দোলনও যেন গল্পের মতো জানা তার। তাই হয়তো এভাবে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার।

গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন পর্বে খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত, লুটপাট-সহ নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু হয়। প্রথমে পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিলন প্রধানকে। তিনি এখন জেলে। মিলন প্রধানের দলের কর্মীরাই প্রচার সারছেন। অন্যদিকে কিছুদিন আগেই সমাজমাধ্যমে মিলন প্রধানের হয়ে বার্তা দিয়েছেন মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। তিনিও স্বামীর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন।

নন্দীগ্রামের লড়াইটা যে বেশ জমে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় শেষ মুহূর্তে সরাসরি লড়াইয়ে নেই ঘাসফুল শিবির। তবে তৃণমূল সুপ্রিমো কংগ্রেসকেই সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বও হাল ছাড়তে নারাজ। মিলন প্রধানকেই সামনে রেখে উপনির্বাচনে লড়াই জারি রেখেছে হাত শিবির। আর কংগ্রেসের এই লড়াইয়ে মিলন প্রধানের মেয়ে ও স্ত্রীর বার্তা অন্যমাত্রা যোগ করেছে।