হার স্বীকারে নারাজ মমতা!

শ্রীরামপুরের সভা থেকে একি বললেন !

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন, দল ভেঙে খান খান। গেছে প্রতীক এমনকি দলের নামও বদলে গেছে। তৃণমূল থেকে এখন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বা সংক্ষেপে এমএআইটিসি। এতকিছুর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্যাক্টর? অনেকেই বলছেন বিজেপি কি এখনও ভয় পাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে কি ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কিস্তিমাত দিতে পারেন মমতা। যাদের নিয়ে হাত ধরাধরি করে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলার মসনদে বসেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগ নেতা-নেত্রীই আর কেউ নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। কল্যাণ, মহুয়া, দোলা, কুণাল আর নতুন মুখের ভিড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে পিছনে। তার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি থেকে বের হলেই ভয় পাচ্ছে কারা। তবে কি নতুন প্রতীক নিয়ে খেলা জমিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কি ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে ২০৩১ বিধানসভা ভোটের বিজ বপন করতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। শ্রীরামপুরের সভা থেকে একি বললেন। যেন তিনিই মুখ্যমন্ত্রীর এমনটাই বোঝালেন মমতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ক্ষমতার অলিন্দে। বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় শুভেন্দু অধিকারী। মিছিল, মিটিং করার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে বারবার হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হত। তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখেই ঘুম উড়ছে শাসক শিবিরের। খেলোয়াড় প্রতীক নিয়ে এই প্রথম জেলা সফরে বের হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরে জনসভা দিয়েই তাঁর সফর শুরু। আর তাতেই কিনা তাল কাটল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্যতম বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুর ও ডিম নিক্ষেপণ ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ভণ্ডুল করার ছক কষেছিল কেউ। হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সভার দিকে নজর ঋতব্রত শিবির থেকে শুরু করে শাসক শিবিরের। দলের নেতারা শিবির বদল করেছে এই আবহে কর্মী থেকে সমর্থকদের পালস বুঝতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ২১ শে জুলাই ও ২৮ অগাস্ট এই দুই বিশেষ দিনেই খাড়াই উতরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সর্বোচ্চ এক হাজার লোক নিয়ে সভা করার অনুমতি দিয়েছিল হাইকোর্ট। তাতে অবশ্য সাপে বর হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই। মাঠে লোক ভরানোর চাপ ভুলে সভা সফল করার লক্ষ্যে অবিচল ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকরা। এরইমধ্যে এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত খবরে তোলপাড় দেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা ও এসআইআরের সত্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। দেশজুড়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই সুরে সুর মিলিয়েছেন। নতুন ভোটার লিস্টে হওয়া ভোট বাতিল করে পুনরায় পুরনো লিস্টে ভোটের দাবি তুলেছেন তিনি। শ্রীরামপুর থেকে আবার বার্তা দিয়েছেন দিল্লি দখলের। তবে কি এসআইআর ইস্যুতে চাপ বাড়ছে বিজেপির। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ভালো করে শুনলে বুঝবেন তিনি তাঁর অবস্থানে অনড়। বক্তব্য বলতে গিয়ে সেই পুরনো ঢঙেই বলে উঠছেন তাঁর সরকার, এমনকি হুগলির উন্নয়নে খতিয়ানেও নেই পাস্ট টেন্স। যেভাবে তিনি বলতেন উন্নয়ন হচ্ছে এখনও তিনি বলছেন উন্নয়ন হচ্ছে আরও উন্নয়ন হবে।


এদিকে জ্ঞানেশ ইস্যুতে ফের যেন পায়ের তলার জমি পেয়েছে ইন্ডিয়া জোট। বাংলায় না হলেও বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় রাজনীতিতে এসআইআর ইস্যুতে এক ছাতার নীচে আসতে চলেছে সিপিএম ও মমতা। সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আগামী সপ্তাহেই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হোক, চান মমতা। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়ে ফোনে কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও। মমতার আবেদন মেনে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। দিল্লিতে হবে বৈঠক। এই আবহেই শ্রীরামপুর থেকে দিল্লি দখলের বার্তা দিয়ে কী বোঝাতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জাতীয় রাজনীতিতে ফের প্রসঙ্গিক হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাতে চলেছেন তিনি। আপনারা কি বলেন। কমেন্ট করে জানান আমাদের।