নরেন্দ্রপুরে যুবককে বেধড়ক মারধর করে লুঠ!

পথ আটকে যুবককে বেধড়ক মার, মাথা ফাটিয়ে লুঠের অভিযোগ!

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নরেন্দ্রপুরে সন্ধে নামলেই আতঙ্ক! বাড়ির বাইরে পা রাখলেই হামলার ভয়, দুষ্কৃতীদের দাপটে ঘরবন্দি এলাকাবাসী, পথ আটকে যুবককে বেধড়ক মার, মাথা ফাটিয়ে লুঠের অভিযোগ, সিসিটিভি সামনে, তবুও অধরা অভিযুক্তরা।

নরেন্দ্রপুর থানার কামরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাবনামারি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় দুষ্কৃতীদের দাপটের অভিযোগ ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ, রাতে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার সময় অয়ন সরদার নামে এক যুবকের পথ আটকায় একদল দুষ্কৃতী। এরপর তাঁকে ঘিরে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। পানীয় টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর বন্দুকের বাট দিয়েও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, হামলার পর অয়নের গলা থেকে সোনার চেন এবং মানিব্যাগে থাকা ১৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। রাতের সেই ঘটনার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। ঘটনায় অয়ন সরদার, সুজয় বিশ্বাস, ঝুম্পা বিশ্বাস-সহ ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

শুধু এই একটি ঘটনা নয়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দুষ্কৃতীদের দাপটের অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ছাবনামারি ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে আটকে মারধর করা হয়। বাড়িতে ঢুকে হামলা, মহিলাদের মারধর এবং শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। সন্ধে নামলেই আতঙ্ক বাড়ে। নিরাপত্তার কারণে বহু মানুষ সন্ধের পর বাড়ির বাইরে বেরোতে চান না বলেও দাবি স্থানীয়দের। বাড়িতে হামলার আশঙ্কায় দিন-রাত গেটে তালা দিয়ে রাখতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

আক্রান্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময়ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় দুষ্কৃতীমূলক কাজের অভিযোগ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, মহিলাদের মারধর, শ্লীলতাহানি, বাড়িঘর ভাঙচুর, ভয় দেখানো, লুট এবং তোলাবাজির মতো ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন তাঁরা। এখন রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অভিযুক্তরাই রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিজেপির নাম করে একই ধরনের দুষ্কৃতীমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এই ঘটনায় অশোক ঘোষ ওরফে হারান, শুভঙ্কর হালদার, দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাম্পার, শেখর হালদার, আকাশ নস্কর এবং সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক।

মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা শুভঙ্কর হালদারের বাড়িতেও পৌঁছয় আমাদের ক্যামেরা। কিন্তু তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর মা জানান, শুভঙ্কর কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।

ঘটনায় নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সামনে এসেছে হামলার সিসিটিভি ফুটেজও। কিন্তু অভিযোগ, ফুটেজ এবং অভিযুক্তদের নাম সামনে আসার পরও এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় স্বাভাবিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা হোক।