টাকার অভাবে বন্ধ মিড ডে মিল!

বরাদ্দ টাকার অভাবে বন্ধ মিড ডে মিল !পকেট থেকে চাঁদা তুলে খাওয়াচ্ছেন শিক্ষকরা

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বরাদ্দ টাকা না আসায় তিন দিন মিড ডে মিল বন্ধ থাকল বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলের। এই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩২৫ জন, যারা মিড ডে মিলের আওতায় পড়ে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর অঞ্চলের অন্তর্গত বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলে গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা তিন দিন মিড ডে মিলের রান্না সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৩২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা সরাসরি এই প্রকল্পের আওতায় পড়ে।

সংকটের মূল কারণ যা স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে যেটা জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে শেষবারের মতো মিড ডে মিলের বরাদ্দ টাকা স্কুলে এসেছিল। জুন মাসের পর থেকে দফায় দফায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন সত্ত্বেও নতুন কোনো অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। দীর্ঘদিন বরাদ্দ বন্ধ থাকায় স্থানীয় মুদিখানা এবং সবজি বিক্রেতাদের কাছে স্কুলের ধারের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। দোকানদাররা বকেয়া না পাওয়ায় নতুন করে বাকি দেওয়া বন্ধ করে দেন, ফলে বাধ্য হয়েই বুধবার থেকে মিড ডে মিল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।শুক্রবার পর্যন্ত মিড ডে মিল বন্ধ থাকার খবর সামনে আসার পর জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্কুলে যোগাযোগ করা হয়। দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে বকেয়া টাকার সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

তবে প্রশাসনিক আদেশের ভরসায় বসে না থেকে শনিবার ছাত্র-ছাত্রীদের খাবারের কথা ভেবে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের পকেট থেকে চাঁদা তোলেন। সেই টাকায় বাজারের পাওনা ও রান্নার ব্যবস্থা করে শনিবার ফের মিড ডে মিল চালু করা সম্ভব হয়। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাময়িকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। স্কুল সূত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি অর্থ বরাদ্দ না আসে, তবে এই ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে মিড ডে মিল চালানো আর সম্ভব হবে না এবং পুনরায় রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।