ত্রিপুরার মানিক সরকারের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম বর্ষণ! অভিযোগের তির বিজেপির দিকে

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃপালাবদলের পর ডিম হামলার ঘটনা যেন রোচ নামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, পূর্বতন শাসকদলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরই বেছে বেছে এই ডিম হামলার টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন দল ও সরকার এক নয়। তারপরেও ডিমাস্ত্র-কে নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লেগেই রয়েছে। এবার এরাজ্যের ছায়া দেখা দিল ত্রিপুরাতেও। সে রাজ্যের প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ উঠল।অভিযোগের তির বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের প্রশ্ন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রতিবাদের একমাত্র ভাষাই কি ডিম? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর্ব আপাতত স্থগিত রাখা যাক। তারে গোটা বিষয়টি আপনাদের কাছে স্পষ্ট করি।
রবিবার ডিওয়াইএফআই-এর সম্মেলনে যোগ দিতে কালীবাজারে যান ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ সিপিআইএম নেতা মানিক সরকার। অভিযোগ, সেই সময়েই তাঁর কনভয়কে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল উত্তেজিত জনতা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কালো পতাকা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়ি আটকে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় এবং গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ে। মানিক সরকারের কনভয় কালীবাজারে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা তাঁর রাস্তা আটকে দেয় এবং প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট তাঁকে আটকে রাখা হয়। বিক্ষোভের জেরে মানিক সরকারের নিরাপত্তায় থাকা একটি এসকর্ট গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ ।
এই পরিস্থিতিতে সিপিআইএম এবং ডিওয়াইএফআই-এর যুব কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দলীয় কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে দুষ্কৃতীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং মানিক সরকারকে নিরাপদ আশ্রয়ে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারী জনতার একাংশের অভিযোগ ছিল, সিপিআইএম সরকারের আমলে রোজভ্যালি এবং বিভিন্ন চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মানিক সরকারকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান তোলে এবং চিটফান্ডের টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষোভ উগড়ে দেয়।
তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হেসেই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা যায়। ঘটনার নিন্দা জানালেও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি সামালের চেষ্টা করেছেন বলে জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রোজভ্যালির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, রোজভ্যালির বিষয় নিয়ে যদি কোনও প্রশ্ন থাকে, তবে ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহাকে জবাব দিতে বলুন।
সোমবার ত্রিপুরার এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবেশ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, ঠিক সেই আবহে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এই ধরনের হামলার চেষ্টা এবং কনভয় আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বামুটিয়া সহ গোটা ত্রিপুরাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। সরাসরি ত্রিপুরার শাসক দল বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকারের শাসনকালে ত্রিপুরায় ন্যূনতম গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, তা বলে গাড়ি ভাঙচুর করা হবে। তার কথায়, জঙ্গলের রাজত্বে যেন বাস করছে সবাই। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আবোলতাবোল বলে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন সুদীপ। মানুষ এখন বিজেপিকে চাইছে না। তার জন্য বিরোধীদের উপর আক্রমণ করছে বিজেপি।
তার কথায়, সিপিআইএম দলের বরিষ্ঠ নেতা তথা ত্রিপুরার একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের এই ধরনের হামলার চেষ্টার ঘটনা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত এবং নিন্দনীয়। ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। ত্রিপুরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান,হামলার পেছনে থাকা সমস্ত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার।
হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনায় ত্রিপুরার শাসকদলের কোনও যোগ নেই বলে জানান বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি।তাঁর কথায়, রোজভ্যালির চিটফান্ড কাণ্ডে কষ্টার্জিত টাকা লুঠ হওয়ার ঘটনার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষ। সেই ক্ষোভ সামাল দিয়ে প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
গত কয়েক মাস ধরে ত্রিপুরারর বিভিন্ন জেলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় ভাঙচুর এবং কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মহাজোট বা বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে শাসক দল ও তার সহযোগীদের মধ্যেও স্থানীয় স্তরে বিরোধের ঘটনা সামনে এসেছে।যার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিম ত্রিপুরার বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কালিবাজারে।ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা পুলিশ প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সমস্ত রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। তবে একের পর এক রাজনৈতিক সমাবেশ ও নির্বাচনের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে এই সংঘাতের আবহ বজায় রয়েছে।ঘটছে ডিম হামলার মত ঘটনা।