ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে আরও সুর চড়াল কংগ্রেস। মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি ‘বিজেপির পুতুল’ বলে আক্রমণ করলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, গত ১২ বছরে পরিকল্পিত ভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার পিছনেও ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে দাবি তাঁর।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
মল্লিকার্জুন খাড়গের কথায়, ‘‘নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে হিসাব করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মোদী সরকারের পুতুলে পরিণত হয়েছেন।’’ তাঁর প্রশ্ন, যে সংস্থা দেশের মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করার কথা, সেই সংস্থার উপরেই যদি আস্থা না থাকে, তা হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী?
সংবিধান সভায় বাবাসাহেব আম্বেডকরের বক্তব্যের উল্লেখ করে খাড়গে বলেন, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তিগুলির একটি। কোনও আধিকারিকের ‘ইচ্ছা’ বা ‘পক্ষপাত’-এর কারণে যোগ্য নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আজ ঠিক তার উল্টোটাই হচ্ছে। রক্ষকই ভক্ষক হয়ে উঠেছেন।’’
এসআইআর নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল? কেন দুই নির্বাচন কমিশনারকে ইন্টারনাল পোর্টালের বাইরে রাখা হয়েছিল? কোনও কিছু গোপন করার চেষ্টা হয়েছিল কি?’’
একই সঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলেছে কংগ্রেস। ভোটার তালিকায় বড় পরিবর্তনের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ, বাদ পড়া ভোটারদের কারণ জানানো ও আপিলের সুযোগ, রাজনৈতিক দলগুলিকে সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া, গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়লে স্বাধীন ও সময়বদ্ধ তদন্ত এবং নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও সিদ্ধান্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা—এই পাঁচ দাবি জানানো হয়েছে।
২০২৭ সালে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটাধিকার রক্ষাকে সামনে রেখে আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছেন খাড়গে। তাঁর কথায়, প্রতিটি ভোট সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে হবে।
এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের অভিযোগের পর থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ তীব্র হয়েছে। বুধবার বিরোধী দলগুলির বৈঠকে এই আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।