১৪৩ বছর পর স্বাভাবিক ভাবেই বারদা অরণ্যে ফিরে এসেছে এশিয়াটিক সিংহ। আর সেই সিংহের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে এ বার পোরবন্দর বন বিভাগকে ঢেলে সাজাল গুজরাত সরকার। বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসন আরও সুসংহত করতেই এই পুনর্গঠন বলে মঙ্গলবার সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বন ও পরিবেশমন্ত্রী অর্জুন মোঢওয়াড়িয়া এবং প্রতিমন্ত্রী প্রবীণ মালির নির্দেশনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তে পোরবন্দর জেলার বিভিন্ন রেঞ্জ, বিট এবং আধিকারিকদের দায়িত্ব নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বদলেছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী, গাড়ি, অস্ত্র, ওয়্যারলেস সরঞ্জাম, নথি এবং অন্যান্য পরিকাঠামোও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় পোরবন্দর রেঞ্জের আওতায় থাকবে ৬,৮৪০.৮৪ হেক্টর বনাঞ্চল এবং ৮০টি গ্রাম। এই রেঞ্জের অধীনে পোরবন্দর সিটি, গোসাবারা, মোকর, ভিসাভাদা, কান্তেলা, মাধবপুর এবং সাতিয়া—এই সাতটি বিট থাকবে। অন্য দিকে রানাভাভ রেঞ্জের আওতায় ১৩,০৫১.২৫ হেক্টর এলাকা এবং ২৭টি গ্রাম থাকবে।
এ ছাড়াও জামনগর বন বিভাগের আরএফডব্লিউ ভাটিয়া রেঞ্জের ৩০৫.৯৪ হেক্টর এলাকা পোরবন্দর বন বিভাগের ভানভাদ রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেবভূমি দ্বারকা জেলার ভানভাদ তালুকের চারটি গ্রাম—কানদারদা যোগনা, সাজদিয়ালা, জুনা এবং জাম্বুসর—এ বার পোরবন্দর বন বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসছে।
কুটিয়ানা রেঞ্জ এবং পোরবন্দর ও রানাভাভের সোশ্যাল ফরেস্ট্রি রেঞ্জও নতুন করে এই বিভাগের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে পোরবন্দর বন বিভাগে মোট রেঞ্জের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত।
বর্ধিত দায়িত্ব সামলাতে দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজ়ারভেটর অফ ফরেস্টস (ACF) রাখা হয়েছে। এক জন পোরবন্দর ও দুই সোশ্যাল ফরেস্ট্রি রেঞ্জ দেখবেন, অন্য জনের দায়িত্বে থাকবে রানাভাভ, ভানভাদ, কুটিয়ানা এবং মোবাইল স্কোয়াড রেঞ্জ। কেভাদিয়ার দু’টি অনুমোদিত ACF পদের মধ্যে একটি খালি পদও পোরবন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পোরবন্দর বন বিভাগ আগের মতোই জুনাগড় ওয়াইল্ডলাইফ সার্কেলের অধীনে থাকবে। আধিকারিকদের মতে, পোরবন্দর, রানাভাভ, ভানভাদ এবং কুটিয়ানাকে এক প্রশাসনিক কাঠামোয় এনে বারদায় সিংহ পুনর্বাসনের পাশাপাশি বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ করাই এই পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য।