রাজ্যের রাজনীতি কি নয়া সমীকরনে হাঁটছে? ৩৪ বছরের বাম শাসনের পর ,১৫ বছরের তৃণমূল রাজত্ব, এরপর রাজ্যের মসনদে প্রথমবারের জন্য ফোটে পদ্ম। এর পর?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীন ভাঙনের পর, এমন কোনও শক্তিশালি দল নেই যে বিজেপি সরকারকে টেক্কা দিতে পারে। নিন্দুকের কথায়,বাঁশবনে শিয়াল রাজা হয়ে রাজত্ব করার সময় রাজ্য বিজেপির।তবে গেরুয়া শিবির এই খুশির আলো কি নিভতে চলেছে?নতুন এক দলের পা পড়েছে বাংলায়? ঠিক কোন উদ্দেশ্যে আগমন? আগামী নির্বাচনগুলিতেই বা কি অবস্থান এই ভিনরাজ্যের দলের ?সবথেকে বড় কথা সাধারন মানুষের কাছে কতটা গ্রহোনযোগ্যতা রয়েছে এই দলের?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
তামিলনাড়ুর গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার বাংলাতে রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ । পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ টাউনশিপ সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রাজ্য স্তরের দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হলো। এখানেই উঁকি দিচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। রাজ্যে পালাবদলের পর খন্ড খন্ড হয়েছে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল। জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে বাম-কংগ্রেস। একটি আসনেই সীমাবদ্ধ আইএসএফ। এর মাঝেই রাজ্যে প্রথম পার্টি অফিস উদ্বোধন করেছে তামিলাগা ভেত্রি কাজাঘম । আর এই একটি দলকে হালকাভাবে কেউই নিতে চাইছেন না। প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি ভোটেও লড়বে তারা? পরবর্তী রাজনৈতিক প্ল্যান কী?
সংগঠনের নীতি ও আগামী কৌশল স্পষ্ট করে TVK-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোঅর্ডিনেটর চৈতালি রায় জানান, “আমাদের প্রাথমিক বা একমাত্র লক্ষ্য এখনই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামা নয়। তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয় যেভাবে সামাজিক কল্যাণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছিলেন, তারাও বাংলায় সেই একই পথ অনুসরণ করছেন।” তাঁর কথায় “শুধুমাত্র পার্টি অফিস বা দলীয় সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে কোনো সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায় না। মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে তাঁদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হতে হবে, স্থানীয় সমস্যাগুলি শুনতে হবে এবং সাধ্যমতো তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।অর্থাৎ নির্বাচনী রাজনীতির জটিল সমীকরণে সরাসরি ঝাঁপ না দিয়ে, আপাতত সামাজিক কাজ ও সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছানোকেই মূল হাতিয়ার করতে চাইছে বিজয়ের এই সংগঠন।
ঠিক এই জায়গাটিতেই ভাববার বিষয় আছে। থালাপতির রাজনীতির সমীকরনটাই তো এমন। কথা কম কাজ বেশি। কাজ বেশি স্বল্পেতে সাফল্য। তানিলনাড়ুর রাজনীতিতেও ঠিক এই পন্থাই কিন্তু অনুসরন করেছিলেন তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পোঁছেছিলেন সাধারনের দরবারে। গড়েছিলেন নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ বা TVK। কেরিয়ারের শীর্ষে থাকাকালীন বিদায় জানিয়েছিলেন সিনেমা জগৎ-কে। মাত্র দু বছরের পথ চলাতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন বিজয়। এরপর শোনা যাচ্ছিল তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছেন। যেহেতু থালাপতি বিজয় হালকাভাবে নেয়নি তাকে সমর্থন করা কংগ্রেস। যদিও বিজয় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনও ইচ্ছা প্রকাশ্যে প্রকাশ করেননি ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দু’মাস ধরেই নীরবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সামাজিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে TVK। সম্প্রতি মালদহে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণের মতো কল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। বর্ধমানকে কেন্দ্রীয় হাব হিসেবে ব্যবহার করে কলকাতা, হাওড়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং বিজয়ের ফ্যান ক্লাব ও সমর্থকদের এক ছাতার তলায় আনার কাজ চলছে।বাংলায় নির্বাচনে লড়াই এবং সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয় দল। রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে TVK ভোটে লড়বে কি না বা কবে নাগাদ পুরোদমে রাজনৈতিক ময়দানে নামবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তামিলনাড়ুর শীর্ষ নেতৃত্ব ও থালাপতি বিজয় নিজে নেবেন। আপাতত রাজনৈতিক মিছিল বা সভার গর্জন ছেড়ে, মানুষের দরজায় কড়া নেড়ে সেবা করাই TVK-র প্রধান লক্ষ্য। বর্ধমানের এই নতুন অফিস সেই দীর্ঘ যাত্রার কেবল প্রথম অধ্যায়। শুধুমাত্র তামিলনাড়ু নয় বাংলাতেও নেতা ও অভিনেতা হিসাবে বেশ গ্রহোনযোগ্য থালাপতি। রাজ্যে তাঁর আগমনের হেতু ,বাংলার আগামী নির্বাচন নাকি জাতীয় রাজনীতির প্রথম পদক্ষেপ?