আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তীর্থক্ষেত্র মায়াপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক বৈঠক করতে ইসকন মায়াপুরে পৌঁছালেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন বেলা আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি মায়াপুরে এসে পৌঁছান।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা
ইস্কনের লোটাস ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী, নদিয়ার জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, কেএমডিএ-এর সিইও নিতিন সিংহানিয়া, দপ্তরের যুগ্ম সচিব সুপ্রিয় অধিকারী, মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট-এর শীর্ষ আধিকারিকরা এবং ইস্কনের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, সেখানে মধ্যাহ্নভোজনের পর মন্ত্রীর মন্দির দর্শন করারও কথা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, পবিত্র মায়াপুরের মাটিতে এটি তাঁর প্রথম সফর। তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য হল, ইস্কন মন্দির সংলগ্ন ৭০০-৮০০ একর জমি এবং পার্শ্ববর্তী সমগ্র টাউন এলাকাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা। ঠিক যেভাবে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট বা ট্যাংরা চিনা টাউনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, সেই আদলেই দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সুবিধার্থে মায়াপুরকে আধুনিক পরিকাঠামোয় সাজানো হবে।
এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পঞ্চায়েত এলাকা হওয়ায় এখানে সঠিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ব্যবস্থা নেই, ফলে যেখানে-সেখানে আবর্জনা জমছে। নিকাশির জন্য নেই কোনও আধুনিক এসটিপি প্ল্যান্ট। এছাড়া গত চার বছর ধরে ঘাটের কাজ চললেও তার তেমন কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। পানীয় জলের সঙ্কট, শৌচাগার ও আলোর অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। তিনি স্পষ্ট জানান, জাতীয় স্তরের দক্ষ প্ল্যানার ও আর্কিটেক্টদের দিয়ে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গণপরিবহণ এবং পর্যটকদের জন্য সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এলাকাটি পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনস্থ হলেও যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উন্নয়ন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পাশাপাশি নবদ্বীপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের নির্বাচিত পাঁচটি স্মার্ট সিটির মধ্যে নবদ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই নবদ্বীপ ও মায়াপুর—উভয়কেই আলাদা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা ফলক লাগানোর রাজনীতি করলেও তাঁদের সরকার মাটিতে নেমে কাজ করায় বিশ্বাসী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো “কথা কম, কাজ বেশি” নীতিতে অটল থেকেই নাগরিকদের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে দিতে প্রশাসন কাজ করছে। পৌরসভার সাফাইকর্মী ও প্রশাসনিক টিমকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যাবতীয় কাজ রূপায়ণের আশ্বাস দেন তিনি।