আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই প্রচার চালাচ্ছে সব রাজনৈতিক দল। নন্দীগ্রামের জয়ের টার্গেট ইতিমধ্যে ফিস্কড করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এখন চ্যালেঞ্জ রেজিনগর। জনবিন্যাস অনুযায়ী এই এলাকায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু। যদিও রেজিনগর জিততে ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক সেরেছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। প্রতিটি মন্ডলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের। রেজিনগরের চারটি মন্ডলের দায়িত্বে বহরমপুর বিধায়ক সুব্রত মৈত্র, বড়ঞার বিধায়ক সুখেন বাগদি। এছাড়াও দায়িত্বে রয়েছেন বেলডাঙার বিধায়ক ভরত ঝাওর। এছাড়াও জেলার দুই মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ ও গার্গী ঘোষ দাসও রেজিনগরের দায়িত্বে রয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ
কিছুদিন আগে রেজিনগরে প্রচারে গিয়েছিল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। প্রচার গাড়ি থেকে ছোড়া হচ্ছিল চকোলেট। মাইকের শব্দ পেয়ে ছুটে গিয়েছিল ৬ বছরের এক শিশু। অভিযোগ, গাড়ি থেকে ছুড়ে দেওয়া চকোলেট কুড়োতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায় খুদে। গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে প্রথমে বেলডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয় খুদেকে। পরবর্তীকালে খুদেকে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এনআরএস-এ চিকিৎসা চলাকালীন রবিবার জীবন শেষ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে নাবালিকার বাড়িতে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। আশ্বাস দেন পাশে থাকার।
নাবালিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে ভাগীরথী নদী পার হয়ে রেজিনগরে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। সভাস্থলে যাওয়ার পথে জলপথে লঞ্চ আটকে যায় কিছুক্ষণের জন্য। মাঝনদীতে পলি থাকায় এই সমস্যা দেখা যায়। নদী পার হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসংযোগ সারেন তিনি।
রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে এইদিন প্রচার সারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার, সভামঞ্চ থেকেই আত্মবিশ্বাসের সুরেই তিনি বলেন, রেজিনগর সরকারের সঙ্গে থাকবে। রেজিনগরের মাটিতেও যে পদ্মফুল ফোটাতে তিনি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী কার্যত এই বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, রেজিনগরের মানুষ সম্প্রদায়ের বিভাজন নয়, তারা উন্নয়ন চান।
রেজিনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস কি ভোটবাক্সেও দেখা যাবে? কারণ একদিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসন, অন্যদিকে উপনির্বাচনের আগে প্রচার ঘিরে তৈরি হওয়া মর্মান্তিক বিতর্ক। তার মধ্যেই বিজেপির দাবি-রেজিনগরের মানুষ এবার বিভাজন নয়, উন্নয়নকেই বেছে নেবেন। তাহলে কি বদলাতে চলেছে রেজিনগরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ? নাকি ৬ অক্টোবর ভোটবাক্স খুলতেই সামনে আসবে সম্পূর্ণ অন্য ছবি?